নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে কার্যকর হয়েছে নতুন 'টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক অ্যান্ড লাইসেন্সিং পলিসি-২০২৫'। নতুন এই নীতিমালার ফলে বিদ্যমান ২৬ ধরনের লাইসেন্সকে একীভূত করে মাত্র ৪টি প্রধান ক্যাটাগরিতে নিয়ে আসা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই সংস্কারের ফলে ইন্টারনেটের দাম কমবে এবং সেবার মান উন্নত হবে। তবে দেশীয় ছোট উদ্যোক্তারা এই নীতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।
বিটিআরসি (BTRC) জানিয়েছে, আগে আইজিডব্লিউ (IGW), আইআইজি (IIG), এনআইএক্স (NIX)-এর মতো অসংখ্য স্তরে লাইসেন্স নিতে হতো, যা সেবার খরচ বাড়িয়ে দিত। এখন থেকে সব সেবা মিলবে এই ৪টি লাইসেন্সের অধীনে:
১. ফিক্সড টেলিকম সার্ভিস (FTSP): বিদ্যমান আইএসপি (ISP) ও পিএসটিএন (PSTN) এই ক্যাটাগরিতে আসবে। ২. সেলুলার মোবাইল সার্ভিস (CMSP): মোবাইল অপারেটরদের জন্য। ৩. আন্তর্জাতিক সংযোগ সেবা (ICSP): সাবমেরিন ক্যাবল ও আন্তর্জাতিক ভয়েস/ডেটা পারাপারের জন্য। ৪. জাতীয় অবকাঠামো ও সংযোগ সেবা (NICSP): টাওয়ার এবং ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের জন্য।
ইন্টারনেট ও কলরেট: স্তরায়ন কমে যাওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের কমিশন সাশ্রয় হবে। বিটিআরসি আশা করছে, এর সুফল সরাসরি গ্রাহকরা পাবেন এবং ভয়েস কল ও ডেটা প্যাকেজের দাম কমবে।
প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা: নতুন নীতিমালায় অপারেটররা ফাইভ-জি (5G) বা সিক্স-জি (6G) এবং আইওটি (IoT)-র মতো আধুনিক প্রযুক্তি কোনো আলাদা জটিলতা ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবে।
বিদেশি বিনিয়োগ: মোবাইল অপারেটরদের ক্ষেত্রে বিদেশি মালিকানা ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নীতিমালাটি বাস্তবায়নের ফলে স্থানীয় ছোট ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা (ISP) কিছুটা শঙ্কিত। তাদের দাবি, লাইসেন্স ফি ৫ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এবং বড় কোম্পানিগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা তাদের জন্য কঠিন হবে। এ খাতে কর্মরত কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই পলিসি বাংলাদেশের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে ছোট উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দিতে সরকার ও বিটিআরসি-কে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে যেন বাজার কেবল বড় হাতে কুক্ষিগত না হয়।
বক্স আইটেম: এক নজরে পরিবর্তন
আগে: ২৬ ধরনের লাইসেন্স, ৩২৯৯টি প্রতিষ্ঠান।
এখন: ৪টি প্রধান লাইসেন্স ক্যাটাগরি।
লক্ষ্য: খরচ কমানো, ফাইভ-জি সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা।
মন্তব্য করুন