কিংবদন্তি ববিতার মুকুটে নতুন সম্মাননার পালক
বিনোদন প্রতিবেদক:বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের পাতায় যে কয়েকজন শিল্পী নিজেদের নাম অমর করে রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে ফরিদা পারভিন ববিতা (Bobita) অন্যতম। অভিনয়ের জাদুকরী শৈলী, চরিত্রের গভীরতা এবং ব্যক্তিজীবনের আপোষহীন দৃঢ়তা—এই তিনটি গুণের সমন্বয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলা সিনেমার এক উজ্জ্বল বাতিঘর। দীর্ঘ কয়েক দশকের ক্যারিয়ারে ববিতা শুধু দর্শকদের মুগ্ধই করেননি, বরং শিল্পের প্রতি তাঁর অসামান্য অবদান ও ত্যাগ তাঁকে দিয়েছে কিংবদন্তির মর্যাদা। সম্প্রতি তিনি আরও একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় যুক্ত করলেন তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের মুকুটে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘কিংবদন্তি খতিয়ান, সেলিব্রিটি লাইফস্টাইল ও বিনোদন সংবাদ’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম হেরিটেজ, আর্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড মনিটরিং ও শোবিজ নিউজ ট্র্যাকিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে ববিতার এই নতুন সম্মাননা ও কানাডা সফরের বিস্তারিত সমীকরণ তুলে ধরা হলো।
চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা ও অ্যাওয়ার্ড ট্র্যাকিং খতিয়ান অনুযায়ী, ববিতা সম্প্রতি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে ‘হুজ হু’ (Who's Who) সম্মাননা যেমন উল্লেখযোগ্য, তেমনি ‘আলী রূপা ফাউন্ডেশন’ থেকে প্রাপ্ত ‘মা পদক-২০২৬’ তাঁর ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের এক দারুণ অর্জন। এই পুরস্কারটি তাঁকে প্রদান করা হয়েছে চলচ্চিত্রে একজন মা হিসেবে অসাধারণ অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে একমাত্র সন্তান অনিককে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কঠিন সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ।
ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়টা ববিতার জন্য ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত। একের পর এক টিভি সাক্ষাৎকার এবং রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে মেলে ধরেছেন। তবে এই ব্যস্ততা পেছনে ফেলে তিনি এখন প্রস্তুত কানাডায় ছেলের কাছে ফিরতে।
কিংবদন্তির বর্তমান শিডিউল খতিয়ান অনুযায়ী, ববিতা সবসময়ই তাঁর জন্মদিনটা সন্তানের সান্নিধ্যে কাটাতে ভালোবাসেন। সেই লক্ষ্যেই তিনি শিগগিরই দেশ ছাড়ছেন। কানাডায় পরিবারের সাথে সময় কাটানোর পাশাপাশি আগামী ২৬ জুলাই আয়োজক খান মোহাম্মদ আলীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘আনন্দ মেলা অ্যাওয়ার্ড’-এ তিনি অংশ নেবেন। এই অনুষ্ঠানেই তাঁকে প্রদান করা হবে ‘লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ (Lifetime Achievement Award), যা তাঁর দীর্ঘ বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের এক চূড়ান্ত স্বীকৃতি।
এ প্রসঙ্গে ববিতা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ কন্ঠে জানান, “প্রতিদিনই অনিকের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ হয়, তবুও মা হিসেবে মনটা ছেলের জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩০ জুলাই আমি অনিকের সঙ্গে আমার জন্মদিন উদযাপন করব। আনন্দ মেলা অ্যাওয়ার্ডের আয়োজকদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার সাথে স্মৃতিচারণ করার অপেক্ষায় আছি।”
ববিতা মানেই একটি যুগের নাম। ‘সংসার’, ‘অশনি সংকেত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘লাঠিয়াল’ থেকে শুরু করে ‘বধূ বিদায়’—প্রতিটি চরিত্রই তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন নিজস্ব স্বকীয়তায়। সত্যজিৎ রায়ের মতো বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকারের পরিচালনায় কাজ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি বাংলাদেশের পতাকাকে উঁচিয়ে ধরেছেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে ববিতা এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা, আর এই নতুন সম্মাননা ও পরিবারের সাথে সময় কাটানোর নতুন অধ্যায় তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনকে করেছে আরও সমৃদ্ধ।
জান্নাত সকালবেলা
|