গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে বিএডিসির বিশেষ পদক্ষেপ
অনলাইন ডেস্ক: দেশের কৃষি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো দেশের অভ্যন্তরে মানসম্পন্ন গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ (এন-৫৩ ও বারি-৫ জাতের) উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী তিন অর্থবছরে দেশের ভেতরেই ১১০ মে. টন গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই অংশ হিসেবে আগামী উৎপাদন মৌসুমে ৩০ থেকে ৪০ মে. টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিএডিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, সংস্থার মোট ২৩টি খামারে এন-৫৩ ও বারি-৫ জাতের এই পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করা হবে। এতদিন দেশে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন না হওয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে তা আমদানি করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা হিসেবে বিতরণ করা হতো।
এই উদ্যোগের বিষয়ে বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম জানান, প্রথমবারের মতো দেশে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করার বিষয়টি যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি বিএডিসির জন্য একটি বড় অর্জন। কৃষকদের চাহিদা পূরণে বিএডিসিকে এই চ্যালেঞ্জে সফল হতে হবে। ইতোমধ্যে সকল বিভাগ ও খামারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বীজ বপন থেকে শুরু করে মাড়াই পর্যন্ত সমুদয় কার্যক্রম পরিদর্শন ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশের জন্য একটি মনিটরিং ও সুপারভিশন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন কার্যক্রম অত্যন্ত সংবেদনশীল ও প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ায় বীজের গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনো রূপ ছাড় দেওয়া হবে না।
বর্তমানে শীতকালীন মৌসুমে দেশে পেঁয়াজ বীজের চাহিদা প্রায় ১১০০-১২০০ মে. টন, যার বিপরীতে বিএডিসি গড়ে প্রতি বছরে প্রায় ২০-৩০ মে. টন বীজ সরবরাহ করে থাকে। গ্রীষ্মকালেও বিএডিসির মাধ্যমে এই বীজ উৎপাদন শুরু হলে একদিকে যেমন আমদানি নির্ভরতা ও বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে কৃষকরাও গুণগত মানসম্পন্ন বীজ স্বল্পমূল্যে পাবেন।
|