কেরালা মসজিদে আজান দেওয়া অবস্থায় মুয়াজ্জিনের ইন্তেকাল

প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩৮ অপরাহ্ণ
কেরালা মসজিদে আজান দেওয়া অবস্থায় মুয়াজ্জিনের ইন্তেকাল
নিজস্ব প্রতিবেদক:পবিত্র ইসলাম ধর্মে নামাজের জন্য মুমিন বান্দাদের আল্লাহর ঘরের দিকে আহ্বান করা তথা আজান দেওয়ার ফজিলত ও মর্যাদা অপরিসীম। আর সেই আজান দেওয়া অবস্থাতেই যদি কোনো মুয়াজ্জিন সরাসরি আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান, তবে তা মুসলিম উম্মাহর কাছে এক পরম সৌভাগ্যের এবং ঈর্ষণীয় বিদায় হিসেবে গণ্য হয়। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় এমনই এক অলৌকিক ও নজিরবিহীন কন্ডিশন প্রত্যক্ষ করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। মসজিদের মাইকে আজানের পবিত্র বাণী উচ্চারণ করতে করতেই হঠাৎ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন সেখানের এক প্রবীণ মুয়াজ্জিন। এই হৃদয়স্পর্শী বিদায়ের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর থেকে বিশ্বব্যাপী শোক ও দোয়ার জোয়ার বইছে।

আজ রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘ইসলামি চিন্তাধারা, ঐতিহ্য ও মুসলিম উম্মাহ খতিয়ান’ এবং ‘রিলিজিয়াস ইভেন্টস ট্র্যাকিং, গ্লোবাল মুসলিম কমিউনিটি ও স্পিরিচুয়াল অ্যাফেয়ার্স উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে মুয়াজ্জিন আব্দুল লতিফের মৃত্যুর অভ্যন্তরীণ খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

কেরালার স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী মুসল্লিদের অফিশিয়াল খতিয়ান থেকে জানা যায়, ইন্তেকাল হওয়া ওই পরম সৌভাগ্যবান মুয়াজ্জিনের নাম আব্দুল লতিফ। গত মঙ্গলবার কেরালার একটি চেনা মসজিদে তিনি যখন মাগরিব বা অন্য কোনো ওয়াক্তের আজানের মেথডলজি সম্পন্ন করছিলেন, তখনই এই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটে।

মসজিদের ভেতরে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আব্দুল লতিফ প্রতিদিনের মতোই অত্যন্ত সুন্দর ও সুমধুর কণ্ঠে আজান দিচ্ছিলেন। আজানের প্রথমাংশ শেষ করে যখন তিনি আল্লাহর একত্ববাদ ও রাসুলের রিসালাতের সাক্ষ্য তথা ‘শাহাদাত বাণী’ (আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) উচ্চারণ করেন, ঠিক তখনই তাঁর কণ্ঠস্বর আচমকা স্তব্ধ হয়ে যায়। তিনি তীব্র শারীরিক কন্ডিশন হারিয়ে মসজিদের মেঝের ওপর হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন।

ইন্টারনেটের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কেরালা মসজিদের ভেতরের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইল ভিডিও মেথডে দেখা যায়, মুয়াজ্জিন আব্দুল লতিফ আজানের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিখুঁতভাবে শেষ করার পরপরই মাইক্রোফোন হাতে থাকা অবস্থায় ধীর স্থির মেথডে নিচে পড়ে যান।

মসজিদের ভেতরে উপস্থিত মুসল্লিরা তাৎক্ষণিকভাবে আজান কক্ষের দিকে ছুটে যান এবং তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত বা মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের খতিয়ান অনুযায়ী, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে বা কোনো তীব্র অভ্যন্তরীণ কন্ডিশনের কারণে মসজিদের ভেতরেই তাঁর রূহ বের হয়ে গিয়েছিল।

আজান দেওয়া অবস্থায় একজন মুয়াজ্জিনের এমন পবিত্র ও স্মরণীয় মৃত্যুর খবর ফেসবুক, এক্স (টুইটার) ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লাখ লাখ মুসলিম গভীর সহানুভূতি ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন। এর আগে পবিত্র আল-আকসা মসজিদের দীর্ঘ ৪৮ বছরের মুয়াজ্জিন শায়খ নাজি আল-কাজ্জাজের ইন্তেকাল কিংবা অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমানের বিদায়ের খতিয়ানও মুসলিম সমাজকে কাঁদিয়েছিল। কেরালা মসজিদের এই ঘটনাটি সেই তালিকায় এক নতুন আধ্যাত্মিক মাত্রা যোগ করল।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেটিজেন ও ইসলামি স্কলাররা মন্তব্য করেছেন, একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে সুন্দর এবং মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যু আর হতে পারে না। মুসল্লিদের মহান আল্লাহর ইবাদতের দিকে ডাকার এই পবিত্রতম মুহূর্তে সরাসরি সিজদার ঘরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা রব্বুল আলামীনের এক বিশেষ নেয়ামত ও জান্নাতী মেথডলজির লক্ষণ। বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ মরহুম মুয়াজ্জিন আব্দুল লতিফের আত্মার পূর্ণ মাগফিরাত ও পরকালে জান্নাতুল ফেরদাউস কামনা করে বিশেষ দোয়া ও শোক খতিয়ান অব্যাহত রেখেছেন।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন