দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে ৭ শিশুর মৃত্যু
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের হাম পরিস্থিতির এই উদ্বেগজনক ও সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৩১ জনে। আর গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ২১ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ২৭৯ জনে।
অধিদপ্তর আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া (কনফার্মড) হামরোগীর সংখ্যা ২০৮ জন। আর গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ মে পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ৮ হাজার ২৭৫ জনে। একই সাথে গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ৪৬ হাজার৪০৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে ৪২ হাজার ৩৩৬ জন শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের তীব্র উপসর্গ বা সন্দেহভাজন হিসেবে ৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে ২১ মে পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামজনিত কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৫ জনে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের কারণে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৩ জন শিশু। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে ২১ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৮৩ জন শিশুর মৃত্যু হলো।
এর আগে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল দেশে এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড হয়েছিল। ওই দিন ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১ হাজার ৫৬৪ জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। আজকের পরিসংখ্যান সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক ডাটা অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে দেশে মোট ৮০ জনের বেশি শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে এবং সন্দেহভাজন হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যা চার শতাধিক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষায় হামের টিকা বা এমআর টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো লক্ষণ দেখামাত্রই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
জান্নাত সকালাবেলা
|