রমজানে সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকার কার্যকরী কৌশল

রমজানে সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকার কার্যকরী কৌশল

রোজা আত্মসংযম শেখায়। এ সময় ঠিকমতো নিজের যত্ন নিলে পুরো মাসই শক্তি ধরে রাখা সম্ভব। রোজার স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে সময় কাটানো এবং নিয়মিত ইবাদত শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

​রোজা রাখার নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। তারপরও সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীর ক্লান্ত লাগা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে রমজানের পুরো সময় সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকা সম্ভব।

 রোজায় শক্তি ধরে রাখতে যা করবেন—

​সেহরিতে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন

সেহরিতে এমন খাবার রাখতে হবে যা একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর ও সারাদিনের শক্তি জোগাবে। সেহরিতে জটিল কার্বোহাইড্রেট যেমন হোল গ্রেইন রুটি বা বাদামি চাল, সঙ্গে প্রোটিন যেমন ডিম বা পনির রাখুন। স্বাস্থ্যকর চর্বির জন্য অল্প অ্যাভোকাডো বা বাদাম খেতে পারেন। কলায় শরীরে বাড়তি শক্তি মিলবে। এ সময় অতিরিক্ত লবণাক্ত আর গভীর তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন; তা না হলে সারাদিন তৃষ্ণায় কাহিল হবেন। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।

​হালকা ব্যায়াম করুন

রোজার শুরুতে একটু খারাপ লাগলেও ধীরে ধীরে শরীর মানিয়ে যায়। সারাদিন শুয়ে-বসে না থেকে রোজার দিনে হালকা হাঁটা, কিছু স্ট্রেচিং বা সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন। তাহলে শরীর ফিট থাকবে। রোজা রেখে ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো।

​ঘুমের সময় ঠিক করুন

সেহরির সময় ওঠা, ইফতার ও তারাবির নামাজ সব মিলিয়ে রোজার দিনে ঘুমের রুটিন এলোমেলো হয়ে যায়। রোজার দিনে বেশি রাত না জেগে একটু তাড়াতাড়ি ঘুমানোর চেষ্টা করুন। কারণ ঘুম কম হলে শরীর এমনিতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। প্রয়োজনে দিনের বেলায় বিশ্রাম নিন।

​ঠান্ডা পরিবেশে থাকুন

এখন দিনে গরম লাগা শুরু হয়েছে। গরমে রোজা রাখা আলাদা চ্যালেঞ্জ। এ সময় রোদে বেশি ঘোরাঘুরি এড়িয়ে চলুন। তা না হলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। মাথাঘোরা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

​রমজানে সুস্থ থাকতে আরও যা করতে পারেন:

*​সকালে মেডিটেশন বা যোগব্যায়াম।
*​ইফতারের পর সন্ধ্যায় হাঁটা।
*​ইফতারের পর থেকে সেহরির আগ পর্যন্ত 

*পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা।
*​গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করা।
*​প্রিয়জনের সাথে সেহরি-ইফতার করুন।

*বিভিন্ন স্থানে ইফতারের দাওয়াতে যোগ দিন। এতে সম্প্রীতি বজায় থাকবে।

​আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন