প্রাণিসম্পদ খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: জিডিপিতে নতুন দিগন্তের সম্ভাবনা

প্রাণিসম্পদ খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: জিডিপিতে নতুন দিগন্তের সম্ভাবনা

ডা. তবজিল আহামেদ শুভ 

বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি প্রাণিসম্পদ খাত। বর্তমানে জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ১.৮–২ শতাংশ হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে এই চিত্র আমূল বদলে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারত, চীন এবং ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো ইতোমধ্যে প্রাণিসম্পদ খাতে প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটিয়েছে। ভারতে ‘স্মার্ট ডেইরি ফার্মিং’-এর মাধ্যমে পশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং চীনে ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হচ্ছে। প্রযুক্তির এই সঠিক ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি ও খরচ হ্রাস পাচ্ছে, যা সরাসরি জিডিপিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের জীবিকা সরাসরি প্রাণিসম্পদ খাতের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এর সম্ভাবনা ব্যাপক।

এআই ব্যবহার করে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে রোগ শনাক্ত করে পশুমৃত্যুর হার কমানো সম্ভব। প্রজনন ব্যবস্থার সঠিক সময় নির্ধারণ এবং ফিড অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে কম খরচে অধিক মাংস ও দুধ উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়। উন্নত সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

সরকার ইতোমধ্যে ‘ন্যাশনাল লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট পলিসি’ ও ‘ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট’ উদ্যোগের মাধ্যমে এই খাতকে আধুনিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে স্মার্ট ফার্মিং প্রযুক্তির বিস্তার, সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি এবং কৃষকদের ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

প্রযুক্তি ও গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ জোরদার করা গেলে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণই হবে না, বরং একটি রপ্তানিমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

লেখক: ভেটেরিনারি সার্জন,

প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল 

কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ  


মন্তব্য করুন