ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ইমদাদুল হক মিলন: পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণায় ফুটিয়ে তুলেছেন বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামের সেই হারানো দিনগুলোর কথা। তাঁর স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছেন মণীন্দ্র ঠাকুর—গ্রামের এক আমুদে ও মানবদরদী ডাক্তার, যিনি পহেলা বৈশাখের সকালে গ্রামের শিশুদের ‘কাঁচা টাকা’ (কয়েন) দিতেন মেলায় গিয়ে আনন্দ করার জন্য।
লেখকের বর্ণনায় উঠে এসেছে কালীরখিলের বিশাল মাঠের বৈশাখী মেলার দৃশ্য, যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হতো ‘গলুইয়া’। মেলার সেই ডুগডুগি, মাটির খেলনা, আমৃতি, রসগোল্লা আর রঙিন শরবতের স্বাদ আজও তাঁকে আন্দোলিত করে। তখন প্লাস্টিকের ভিড় ছিল না, কুমোরদের নিপুণ হাতে তৈরি মাটির পুতুল আর ঘোড়া ছিল শিশুদের প্রধান আকর্ষণ।
পহেলা বৈশাখের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের দিকে আলোকপাত করে লেখক জানান, কীভাবে পাকিস্তানি শাসনামলে এই উৎসবের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল এবং বাঙালি জাতি প্রতিবাদের মাধ্যমে তা রক্ষা করেছে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের সময় পহেলা বৈশাখ সরকারি ছুটির দিন হিসেবে স্বীকৃতি পায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সাল থেকে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ এবং ১৯৮৯ সাল থেকে চারুকলার ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ এই উৎসবকে বিশ্বজনীন রূপ দিয়েছে। ২০১৬ সালে ইউনেস্কো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়।
ইমদাদুল হক মিলনের মতে, পহেলা বৈশাখ আজ শুধু একটি উৎসব নয়, এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক। মণীন্দ্র ঠাকুরের দেওয়া সেই এক টাকার কয়েন আর মাটির খেলনার স্মৃতি যেন চিরন্তন বাঙালির শেকড়ের টান। গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্রই আজ লাল-সাদা পোশাকের বর্ণিল সমারোহে বেজে ওঠে সেই চিরচেনা গান: ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ