ঈশ্বরদীর ফুটপাতে শরবতের পসরা: স্বস্তির খোঁজে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ঈশ্বরদীর ফুটপাতে শরবতের পসরা: স্বস্তির খোঁজে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

হাসান ইসলাম, ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীসহ দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র ও মাঝারি তাপপ্রবাহ। কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত। এই হাঁসফাঁস অবস্থায় একটু স্বস্তির খোঁজে ঈশ্বরদীর সাধারণ মানুষ ভিড় করছেন ফুটপাতের শরবতের দোকানগুলোতে। তবে সাময়িক প্রশান্তি মিললেও এসব খোলা শরবতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঈশ্বরদীর বাস স্ট্যান্ড, রেলগেট, সিএনজি স্ট্যান্ড ও বাজারের মোড়ে মোড়ে ভ্যানে করে বিক্রি হচ্ছে লেবুর শরবত, আখের রস, বেলের শরবত, ইসবগুলের ভুসি ও অ্যালোভেরা জুস। তীব্র গরমে রিকশাচালক, দিনমজুর ও পথচারীদের কাছে এই রঙিন পানীয় এখন যেন 'অমৃত'।

রেলগেট এলাকার ২৮ বছরের অভিজ্ঞ শরবত বিক্রেতা মো. ফেরজু জানান: "গত ৪ দিন ধরে গরম বেশি হওয়ায় বিক্রি বেড়েছে। প্রতি গ্লাস লেবুর শরবত ১০ টাকা থেকে শুরু করে অ্যালোভেরা ২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছি।"

রঙিন এসব পানীয় ও ব্যবহৃত বরফ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী মো. রনি তার তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, "গরমের চোটে শরবত খেয়ে দুই দিন পেটের যন্ত্রণায় দোকান খুলতে পারিনি। শুনেছি এসব শরবতে মাছের বরফ আর কাপড়ের রং মেশানো হয়।"

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কাবেরী অত্যন্ত কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন:

"ফুটপাতের খোলা শরবত কিছুতেই খাওয়া যাবে না। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব পানীয় থেকে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস (হেপাটাইটিস-এ ও ই), কলেরা ও ফুড পয়জনিংয়ের মতো পানিবাহিত রোগ হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত বরফ দেওয়া পানীয় থেকে হুট করে নিউমোনিয়া বা শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি থাকে।"

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক রঞ্জন জানান, গত ৩ এপ্রিল ঈশ্বরদীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাস কমে গেলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও আপাতত তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন