ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
এস এম সাহান, ফরিদপুর: দীর্ঘ প্রায় চার মাস কারাবন্দী থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ফরিদপুরের সিনিয়র সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতা শেখ ফয়েজ আহমেদ। ১৫ মার্চ (রবিবার) বিকেলে তিনি ফরিদপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। এ সময় কারাফটকে তাঁর পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন।
শেখ ফয়েজ আহমেদ ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল এস’-এর জেলা প্রতিনিধি। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ফরিদপুর শহরের গোলপুকুর ড্রিম মার্কেটে স্থানীয় প্রেস ক্লাবের একটি গ্রুপের সঙ্গে বিরোধের জেরে হামলার শিকার হন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, চিহ্নিত কিছু বিতর্কিত সাংবাদিক ও বহিরাগতদের সহায়তায় এই হামলা চালানো হয়। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করলেও পরবর্তীতে স্থানীয় এক জামায়াত কর্মীর দায়ের করা রাজনৈতিক ‘হামলা ও বিস্ফোরক’ মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
শেখ ফয়েজ আহমেদের অনুসারী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশের দাবি, প্রেস ক্লাবের নির্বাচন ও নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছিল। হামলার আগে তিনি প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেছিলেন বলেও জানা গেছে। তাঁর এই দীর্ঘ কারাবাস ও মামলার ঘটনায় দেশ-বিদেশের সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল।
কারাগার থেকে বেরিয়ে শেখ ফয়েজ আহমেদ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার ওপর চরম জুলুম করা হয়েছে। সম্পূর্ণ একটি সাজানো ও মিথ্যা বিস্ফোরক মামলায় আমাকে জড়িয়ে দীর্ঘদিন কারান্তরীণ রেখে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমি পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে সর্বদা সত্যের পথে থেকেছি, যার খেসারত আমাকে দিতে হলো।” তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে সরকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
শেখ ফয়েজ আহমেদের মুক্তিতে ফরিদপুরের সাংবাদিক অঙ্গনে স্বস্তি ফিরলেও এই মামলার পেছনের কুশীলবদের নিয়ে এলাকায় এখনও নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এন.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ