ঝিনাইদহে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

ঝিনাইদহে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ): ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বাণিজ্যিকভাবে আধুনিক 'মালচিং' পদ্ধতিতে টমেটো চাষ শুরু হয়েছে। স্বল্প সময়ে এবং অল্প ব্যয়ে অধিক ফলন পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে এই পদ্ধতিতে চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

মালচিং পদ্ধতিতে চারা রোপণের আগেই জমি প্রস্তুত করে পলিথিন দিয়ে বেড ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর নির্দিষ্ট দূরত্বে পলিথিন ছিদ্র করে চারা রোপণ করা হয়। তালসার গ্রামের সফল চাষি ফারুক হোসেন জানান, এই পদ্ধতির বেশ কিছু বিশেষ দিক রয়েছে:

  • সেচ ও সারের সাশ্রয়: পলিথিন দিয়ে ঢাকা থাকায় মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ বজায় থাকে, ফলে ঘন ঘন সেচ দিতে হয় না।

  • খরচ কম: আগাছা কম হওয়ায় নিড়ানি ও লেবার খরচ অনেক কমে যায়।

  • পুনরায় ব্যবহার: একবার মালচিং পেপার ব্যবহার করে পরপর ২-৩ বার ফসল চাষ করা সম্ভব, যা পরবর্তী চাষের খরচ কমিয়ে দেয়।

ফারুক হোসেনের মতে, ৭ কাঠা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করতে সার, ওষুধ ও চারাসহ খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা। আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এই জমি থেকে ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। তিনি গত তিন মাসে শীতকালীন টমেটো বিক্রি করে ভালো মুনাফা পেয়েছেন এবং বর্তমানে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন জানান, এ বছর উপজেলায় ৭.৫ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বারি হাইব্রিড-৮ জাতের টমেটো চাষ হয়েছে। তিনি বলেন:

"শীতকালীন টমেটোর চেয়ে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর বাজারমূল্য অনেক বেশি থাকে। উপযুক্ত পরিচর্যা করতে পারলে বিঘা প্রতি ১০০ থেকে ১২০ মণ ফলন পাওয়া সম্ভব। কৃষকদের উৎসাহিত করতে এ বছর সরকারিভাবে ৭ জন চাষিকে প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হবে।"

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, উচ্চ মূল্যের এই ফসল চাষে সঠিক পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা পেলে কোটচাঁদপুরের কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন