গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে দীর্ঘ আড়াই মাসের টানাপড়েনে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ইউজিসির স্থগিতাদেশের ফলে নতুন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় তীব্র শিক্ষক সংকটে ভুগছে বিভিন্ন বিভাগ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ৫০০ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩০৪ জন, যার বড় একটি অংশ আবার শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন। ফলে ১০ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে ভয়াবহ সেশনজটের আশঙ্কা।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২৯ নভেম্বর, যখন গণমাধ্যমে গোবিপ্রবির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর প্রেক্ষিতে ২ ডিসেম্বর ইউজিসি এক চিঠির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানায় এবং কয়েকটি বিষয়ে লিখিত জবাব চায়। পরদিনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এফায়েজ ও সদস্য তানজিম উদ্দিন খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দাবি করে যে, নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ইউজিসি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, শিক্ষক সংকটে জর্জরিত একটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কার্যক্রম এভাবে অনির্দিষ্টকাল বন্ধ রাখা ইউজিসির উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ।
ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা না নেওয়া, বাছাই বোর্ডের সদস্যদের তালিকা এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও আজ ১ মার্চ পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন জমা পড়েনি। এ বিষয়ে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন খান বলেন, “অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর, বিশেষ করে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি। আমরা বিষয়টি স্বচ্ছভাবে সমাধান করতে চাই। তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেতে দেরি হওয়ায় প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, অপরিকল্পিতভাবে বিভাগ খোলার কারণেই এই শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের।
অন্যদিকে, গোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দীন শেখর নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অবান্তর। নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্যদের কাছ থেকে কোনো নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি পাওয়া যায়নি। ইউজিসি কেবল অনুরোধ জানিয়েছিল, নির্দেশ নয়। তবুও আমরা স্বচ্ছতার খাতিরে নিয়োগ স্থগিত রেখেছি।” উপাচার্যের মতে, দু-একটি বোর্ডের অভিযোগের অজুহাতে সব বিভাগের নিয়োগ আটকে রাখা অযৌক্তিক। ইউজিসি ও প্রশাসনের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের বলি হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা, যেখানে অনেক বিভাগে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এম.এম/সকালবেলা