সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে দ্রুতই যৌথ অভিযান: বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে দ্রুতই যৌথ অভিযান: বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

মোঃ কারিমুল ইসলাম, মোংলা প্রতিনিধি: বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে পুনরায় দস্যুমুক্ত করতে এবং বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অচিরেই বড় ধরনের যৌথ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এই ঘোষণা দিয়েছেন।

২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বনদস্যুদের তৎপরতা আবারও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, মধু ও কাঁকড়া সংগ্রহকারীরা দস্যুদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। বনজীবীদের অভিযোগ, বনে প্রবেশ করলেই দস্যুরা তাদের জিম্মি করে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করছে। অধিকাংশ বনজীবী দরিদ্য হওয়ায় মহাজন বা ধারদেনা করে এই মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা এখন গভীর সংকটে।

গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাটে হযরত খানজাহান (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সুন্দরবনে বর্তমানে সক্রিয় পাঁচটি বনদস্যু বাহিনীর তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। চিহ্নিত দস্যুদের ওপর এরই মধ্যে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। জেলেরা যাতে নির্বিঘ্নে সাগরে মাছ ধরতে পারে, সেজন্য খুব শিগগিরই সমন্বিত যৌথ বাহিনীর গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হবে।"

অভিযান সংক্রান্ত চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারসহ বন বিভাগ, র‍্যাব, কোস্টগার্ড ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, বনজ সম্পদ লুটপাট এবং জেলেদের বাধাগ্রস্ত করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সুন্দরবনের শান্তি ফিরিয়ে আনাই সরকারের এখন প্রধান লক্ষ্য।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন