ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নাজিয়াত হোসেন, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মাথাভাঙ্গা নদী বর্তমানে দখল ও দূষণের কারণে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। একসময়ের খরস্রোতা ও প্রাণবন্ত এই নদী এখন নাব্যতা হারিয়ে অনেকটা সরু নালায় পরিণত হয়েছে। নদীর দুই তীর অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়া এবং প্রতিনিয়ত বর্জ্য ও আবর্জনা ফেলায় পানির মান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে নদীর মাছ ও সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এক সময় এই নদীতে সারা বছর প্রচুর পানি প্রবাহিত হতো এবং নানা প্রজাতির দেশীয় মাছের ভাণ্ডার ছিল এই নদী। বর্তমানে নদীতে পানির স্তর অত্যন্ত নিচে নেমে গেছে, যা বর্ষাকাল ছাড়া অনেক স্থানে হেঁটেই পার হওয়া সম্ভব। নদীর মাঝখানে পলি জমে স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। মাথাভাঙ্গা নদীটি ভারতের মুর্শিদাবাদ হয়ে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, যার চুয়াডাঙ্গা অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। এক সময় এই নদী দিয়ে বড় বড় নৌযান চলাচল করলেও বর্তমানে নৌকা চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষিকাজে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। হাটবোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দারা আক্ষেপ করে জানান, যে নদীর পানি দিয়ে আগে রান্নার কাজ চলত, এখন তা দূষণের কারণে কৃষিকাজেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে যে, পৌর এলাকার ড্রেনেজ লাইনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত দূষিত পানি নদীতে মিশছে। পাশাপাশি বাজার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং পশুহাটের বর্জ্য ফেলার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে এই নদী। নদীর দুই তীরের শত শত বিঘা জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বাগান, বসতবাড়ি ও নানা স্থাপনা। এছাড়া কৃষি জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক এবং নদীতে বাঁশের বেড়া বা অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার ফলে পানির স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে নদী রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে নানা আন্দোলন করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। দখলমুক্ত করা, বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত খননের মাধ্যমে নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই ঐতিহ্যবাহী নদীটি মানচিত্র থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যার বিরূপ প্রভাব পড়বে পরিবেশ ও জনজীবনে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ