মো. ফরহাদ, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের মহেশপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে ফাঁসাতে নিজ বসতঘরে চুরির নাটক সাজিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে নাজমুল হাসান সাগর নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সাগর সেনাবাহিনীর একজন কর্পোরাল হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উত্তরা ব্যাংকের মাধবদী শাখার সহকারী অ্যাকাউন্ট অফিসার মোঃ আবুল হোসেনের সাথে নাজমুল হাসান সাগরের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। গত ১১ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সাগরের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। আবুল হোসেনের দাবি, এই চুরির ঘটনাটি সাজানো এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও আইনি ঝামেলায় ফেলতেই এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, “সাগর তার পদের প্রভাব খাটিয়ে আমার সীমানার ৪-৫ হাত জায়গা দখল করে ঘর তুলেছেন। প্রতিবাদ করায় ৫-৬ মাস আগে আমাকে বেধড়ক মারধরও করা হয়েছে। এখন নিজেকে বাঁচাতে এবং আমাকে জমি থেকে উচ্ছেদ করতে তিনি চুরির নাটক সাজিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।”
তবে চুরির বিষয়ে সাগরের স্ত্রী জানান, তারা কাউকেই সরাসরি দোষারোপ করেননি, শুধু চুরির কথা পুলিশকে জানিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত নাজমুল হাসান সাগর জমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “গ্রামের মানুষ দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে আমি ঘর তুলেছি। চুরির ঘটনায় আবুল হোসেনের নেতৃত্ব ছিল এমনটা বলিনি, তবে তার হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছি।”
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হোসেন অধিকাংশ সময় কর্মস্থলে ও শহরের বাসায় থাকেন। গ্রামের মানুষের ধারণা, জমি বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চলছে। মাকসুদা বেগম নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আবুল হোসেন গ্রামে থাকেন না। চুরির ঘটনায় তাকে জড়ানোর চেষ্টাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক।”
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার এসআই খালেকুজ্জামান জানান, একটি অজ্ঞাতনামা চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগকারী চুরির দাবি করলেও এলাকাবাসী একে ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম.এম/সকালবেলা
মন্তব্য করুন