বিশ্বকাপের মঞ্চে জ্যাকেটে বাংলাদেশ ফুটিয়ে তুললেন সঞ্জয়
বিনোদন প্রতিবেদক:বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় মেগা আসর ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’-এর পর্দা উঠেছে বর্ণিল আলো আর উৎসবের আমেজে। আর এই বৈশ্বিক ফুটবল মহোৎসবের উদ্বোধনী মঞ্চে এবার রচিত হলো বাংলাদেশের এক নতুন গৌরবের খতিয়ান। কোনো ফুটবল দল হিসেবে মাঠের লড়াইয়ে না থাকলেও, কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ ধাঁধানো উদ্বোধনী মঞ্চে সংগীতের এক জাদুকরী কন্ডিশনে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিশ্বখ্যাত ডিজে, গায়ক ও সংগীত প্রযোজক সঞ্জয় দেব (Sanjoy Deb)। টরন্টোর মেগা স্টেডিয়ামে পারফরম্যান্সের সময় তিনি তাঁর অসাধারণ গায়কি এবং পোশাকে ধারণ করা দেশীয় মোটিফের মাধ্যমে বৈশ্বিক দর্শকদের সামনে লাল-সবুজের এক অনবদ্য আইনি ও নান্দনিক রূপ উপস্থাপন করেছেন।
আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল মিউজিক, কালচারাল ইভেন্ট ও বিনোদন খতিয়ান’ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল শোবিজ, ফ্যান ট্র্যাকিং ও সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডস মনিটরিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে সঞ্জয়ের এই ইতিহাস গড়ার সমীকরণ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
ফিফা অফিশিয়াল ইভেন্ট ট্র্যাকিং খতিয়ান অনুযায়ী, গত শুক্রবার কানাডার টরন্টোর বিখ্যাত বিএমও স্টেডিয়ামে (BMO Field) ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। সেখানে ফিফার অফিশিয়াল অ্যালবামের অন্যতম মেগা ট্র্যাক ‘সির সির’ (Sir Sir) গানটি লাইভ পরিবেশন করতে মঞ্চে আসেন কানাডীয় বলিউড সেনসেশন নোরা ফাতেহি এবং ফরাসি হিপহপ সুপারস্টার ভেজেড্রিম। আর তাঁদের সাথেই একই কন্ডিশনে প্রধান পারফর্মার হিসেবে মঞ্চ কাঁপিয়েছেন বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান শিল্পী সঞ্জয় দেব।
মঞ্চে পারফরম্যান্সের সময় কালো প্যান্টের সঙ্গে সঞ্জয়ের পরা লাল রঙের ফুলহাতা বিশেষ জ্যাকেটটি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জ্যাকেটের ডান হাতাজুড়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও আধুনিক এমব্রয়ডারি মেথডলজিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বাংলাদেশের পরিচয়ের তিনটি মেগা স্তম্ভ—বীরত্বের প্রতীক বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা। পারফরম্যান্স চলাকালীন সঞ্জয় শুধু এই পোশাক পরেই ক্ষান্ত হননি, বরং বারবার নিজের হাতের ডিজাইনটি ক্যামেরার দিকে ইশারা করে পুরো বিশ্ববাসীর নজর বাংলাদেশের দিকে আকর্ষণ করার এক অভূতপূর্ব গেমপ্ল্যান অ্যাপ্লাই করেন।
প্রকাশিত কালচারাল খতিয়ানে জানা যায়, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করার এই মাস্টারপ্ল্যানটি বেশ কিছুদিন আগে থেকেই তৈরি করা হচ্ছিল। সঞ্জয় প্রথম আলোকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে জানান, ফিফার উদ্বোধনী আসরে তাঁর নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের অনেক অনুরাগী তাঁকে সাধারণ স্পোর্টস জার্সি পরে মঞ্চে ওঠার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক মঞ্চের গাম্ভীর্য বজায় রেখে আরও নান্দনিক ও রাজকীয় কোনো মেথডে নিজের শিকড়কে তুলে ধরতে।
পরবর্তীতে তিনি তাঁর অফিশিয়াল ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ছায়া কুমারের সাথে দীর্ঘ বৈঠক শেষে এই জ্যাকেটের বিশেষ মোটিফ ও কন্ডিশন তৈরি করেন। তাঁর মতে, বেঙ্গল টাইগার এদেশীয় তারুণ্যের শক্তি ও সাহসের খতিয়ান, শাপলা বহন করে হাজার বছরের কৃষ্টি এবং লাল-সবুজ রং বিশ্বকে দেয় শান্তি ও সৌহার্দ্যের বার্তা। মঞ্চে বারবার হাতার নকশা দেখানোর বিষয়টি আগে থেকে স্ক্রিপ্টেড ছিল না; বরং গাওয়ার সময় ভেতর থেকে আসা তীব্র দেশপ্রেমের তাগিদেই তিনি স্বতস্ফূর্তভাবে এই মেথডলজি অ্যাপ্লাই করেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্র্যাকিং উইংয়ের সর্বশেষ উপাত্ত অনুযায়ী, বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফর্ম করার মাত্র ৬৫ সেকেন্ডের একটি ছোট ভিডিও ক্লিপ সঞ্জয় তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুকে পোস্ট করার পর তা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল কন্ডিশন তৈরি করেছে। আজ পর্যন্ত ভিডিওটি অবিশ্বাস্যভাবে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি ভিউ এবং প্রায় সাড়ে ৮ লাখের বেশি রিঅ্যাকশন কুড়িয়ে এক নতুন রেকর্ড গড়েছে।
বিশ্বমঞ্চের এই চরম সাফল্যের মুহূর্তে দাঁড়িয়েও নিজের জন্মভূমি ও মা-বাবার কথা ভুলেননি এই তারকা। তিনি অত্যন্ত আবেগ আপ্লুত হয়ে জানান, বাংলাদেশের মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থন ছাড়া সুনামগঞ্জের একটি ছেলে হিসেবে আজকের এই আন্তর্জাতিক মেগা প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। এই প্রাপ্তি শুধু তাঁর একার নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের।
জান্নাত সকালবেলা
|