আগামী সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ণ
আগামী সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি হতে পারে বলে তিনি আশাবাদী। তাঁর মতে, এমন একটি চুক্তি হলে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এবিসি নিউজের প্রধান ওয়াশিংটন সংবাদদাতা জনাথন কার্লকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা সত্ত্বেও কূটনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি ভালো দেখাচ্ছে, খুবই ভালো দেখাচ্ছে।”

ট্রাম্প জানান, সাম্প্রতিক সময়ে একটি জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তবে সেটি দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আজ কিছুটা সমস্যা হয়েছিল, কিন্তু আমি খুব দ্রুত সেটি সমাধান করেছি।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, সমস্যার মূল কারণ ছিল লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান নিয়ে ইরানের অসন্তোষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে হামলা বন্ধ রাখার আহ্বান জানান এবং একই সঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর এই হস্তক্ষেপের পর উভয় পক্ষই পারস্পরিক হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এমন আশাবাদী বক্তব্যের মধ্যেই সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা এসেছে তেহরান থেকে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান।

তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যে বার্তা আদান-প্রদান চলছিল, তা ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছেন ইরানি আলোচকরা। মূলত লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের প্রতিবাদেই তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের এই অবস্থান দ্রুত কোনো যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ আলোচনার পরিবেশ তৈরি হওয়ার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে; যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে এবং পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

মন্তব্য করুন