দানবাক্সের টাকা চুরির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন ‘ভাইরাল সিদ্দিক’

প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ণ
দানবাক্সের টাকা চুরির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন ‘ভাইরাল সিদ্দিক’
সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ভিডিওকে ঘিরে নতুন করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনায় এসেছেন ধর্মীয় বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া মাওলানা খান মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দিক, যিনি নেটিজেনদের কাছে ‘ভাইরাল সিদ্দিক’ নামেই অধিক পরিচিত। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে একটি দানবাক্স থেকে তাঁকে টাকা নিতে দেখে অধিকাংশ ব্যবহারকারী তাঁর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুললেও, অনুসন্ধানে জানা গেছে এই ঘটনার পেছনে রয়েছে মোহাম্মদপুরের একটি কিশোর গ্যাংয়ের নির্মম নির্যাতন ও চাঁদাবাজির এক চাঞ্চল্যকর নেপথ্য কাহিনী।

আজ শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে প্রকাশিত এক বিশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিবেদনে এই চুরির অপবাদের পেছনের প্রকৃত সত্যটি উন্মোচিত হয়েছে।

এ বিষয়ে নিউ মুসলিম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাওলানা খান মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দিক ওরফে ‘ভাইরাল সিদ্দিক’ কালবেলার কাছে চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, “আমি বিগত ২০০৮ সালে ‘নিউ মুসলিম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’ নামের এই দাতব্য সংগঠনটি গঠন করি এবং সরকারিভাবে এর যথাযথ নিবন্ধন সম্পন্ন করি। বর্তমানে ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমাদের প্রতিষ্ঠানের ১৫-১৬টি অনুমোদিত দানবাক্স রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এসব দানবাক্সের অর্থ সংগ্রহ, গণনা ও সামগ্রিক পরিচালনার দায়িত্বও আমাদের প্রতিষ্ঠানের ওপর ন্যস্ত। এই দানবাক্স থেকে সংগৃহীত অর্থ আমরা মূলত সনাতন বা অন্য ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করা নওমুসলিম ভাই-বোনদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তায় ব্যয় করে থাকি।”

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে চুরির অপবাদ দিয়ে যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে, সেটি মূলত গত ১৯ এপ্রিল রমজান মাসের পর ধারণ করা হয়েছিল। সেদিন তিনি মোহাম্মদপুর এলাকায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের একটি দানবাক্স খুলে সেখান থেকে জমানো টাকা বের করে হিসাব করছিলেন। ঠিক সেই সময় মোহাম্মদপুর এলাকার একটি স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন চিহ্নিত সদস্য অতর্কিতভাবে সেখানে এসে তাঁকে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে জোরপূর্বক মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করে।

আবুবকর সিদ্দিক অভিযোগ করেন, ভিডিও ধারণের পর কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি অজ্ঞাত অন্ধকার কক্ষে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় আটকে রাখে। সেখানে তাঁর ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং এই চুরির ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁর ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে উপায়ান্তর না দেখে নিজের জীবন বাঁচাতে তিনি তাঁর তিনজন নিকটাত্মীয়ের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাদের কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিকাশের মাধ্যমে ৮ হাজার টাকা আনিয়ে ওই কিশোর গ্যাংয়ের হাতে তুলে দেন। এরপরই সেদিনের মতো তিনি তাদের হাত থেকে নির্মম রক্ষা পান। এই পৈশাচিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর তিনি নিজে বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি আনুষ্ঠানিক মামলাও দায়ের করেছিলেন বলে জানান। এখন পুরনো সেই ভিডিওটিকেই তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে নতুন করে ফেসবুকে চুরির ঘটনা হিসেবে ছড়ানো হচ্ছে।

মাওলানা আবুবকর সিদ্দিকের দাবি, এটি কোনো চুরির ঘটনা ছিল না, বরং নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব-নিকাশ ও অর্থ সংগ্রহের অংশ হিসেবেই তিনি নিজের দানবাক্স থেকে টাকা সংগ্রহ করছিলেন। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাদের চাঁদাবাজির অপরাধ ঢাকতে এবং তাঁর সামাজিক সুনাম নষ্ট করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রসঙ্গত, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ইন্টারনেটে নানা ধরণের অদ্ভুত ও বৈচিত্র্যময় বক্তব্য দিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছিলেন ভাইরাল সিদ্দিক। অতীতেও তিনি একাধিকবার বিভিন্ন স্থানে উগ্র জনতা ও প্রতিপক্ষের হাত থেকে রক্ষা পেতে গিয়ে হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছিলেন। বর্তমান এই ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশও নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে।

জান্নাত সকালাবেলা

মন্তব্য করুন