আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বেইজিং ত্যাগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৫ মে) এই হাই-প্রোফাইল সফর শেষ হলেও প্রাপ্তির খতিয়ান মেলাতে গিয়ে বিশ্লেষকরা একে ‘সামান্য অর্জন’ হিসেবেই দেখছেন। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন সফর করলেন।
সফরের আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে কোনো কমতি না থাকলেও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পরিবেশ ছিল বেশ উত্তপ্ত। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাইওয়ান নিয়ে যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ককে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাবে। জবাবে ট্রাম্প জানান, তিনি শি’র কথা শুনেছেন কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে শিগগিরই দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
ইরান যুদ্ধ বন্ধে বড় কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে এই শীর্ষ সম্মেলন। গত বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ঐকমত্যের খবর এলেও শুক্রবার বেইজিংয়ের সুর ছিল ভিন্ন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরান যুদ্ধকে ‘তামাশা’ বলে অভিহিত করে অবিলম্বে শান্তি চুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে বাণিজ্যিক খাতেও বড় ধাক্কা খেয়েছে ওয়াশিংটন। চীন ১০ বছর পর মাত্র ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার সম্মতি দিয়েছে, যেখানে আমেরিকার প্রত্যাশা ছিল ৫০০টির বেশি। এই হতাশাজনক খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে বোয়িংয়ের শেয়ারের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
পুরো সফরে ট্রাম্প বেশ সংযত থাকলেও বাণিজ্যে বড় কোনো অগ্রগতি বা কৌশলগত কোনো গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। সামরিক কুচকাওয়াজ ও রাজকীয় আতিথেয়তা পেলেও ট্রাম্পের থলিতে জমা হওয়া অর্জনের ঝুলি ছিল বেশ হালকা। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষই নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থ নিয়ে অত্যন্ত অনমনীয় অবস্থানে ছিল।
এ.আই.এল/সকালবেলা