নিজস্ব প্রতিবেদক: মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে ডিজিটাল ও অনলাইন মাধ্যমের ব্যাপক বিস্তৃতির প্রেক্ষাপটে সাংবাদিক হওয়ার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং আচরণবিধি (কোড অব কন্ডাক্ট) প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন দেশের জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি)। সরকারের পক্ষ থেকেও এই দাবির সাথে একমত পোষণ করে দ্রুত নীতিমালা ও রেগুলেশন তৈরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিন বুধবার (৬ মে ২০২৬) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসকদের কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “রাজনৈতিক প্রভাবের যে কথাটি আপনারা বলছেন, সেই সংক্রান্ত কোনো আলোচনা আজকের অধিবেশনে আসেনি। এখানে মূলত যে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে তা হলো, মাঠ পর্যায়ে আমাদের যেসব সাংবাদিক ভাইয়েরা কাজ করেন, তাঁদের কাজের পরিধি ও ধরন। আমরা এখন পুরোপুরি একটি ডিজিটাল মিডিয়ার যুগের মধ্যে ঢুকে পড়েছি। এর ফলে খুব সহজেই অনেকে অনলাইন ভিত্তিক মিডিয়া চালু করছেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “অনলাইন মিডিয়ার এই জোয়ারের কারণে মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসকেরা মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন সমস্যা ফেস করছেন, যা আপনারা সাংবাদিকেরাও নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন। এখানে স্পষ্টতই একটি প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার অভাব রয়েছে। সুতরাং, ডিসিদের একটি বড় প্রত্যাশা ও দাবি হলো—সাংবাদিক হওয়ার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা দরকার এবং সাংবাদিকদের জন্য একটি ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ থাকা দরকার, যা সবাই বাধ্যতামূলকভাবে ফলো করবেন। এটি করা হলে মাঠ পর্যায়ে সাংবাদিকদের যেমন পেশাদারিত্ব বাড়বে, তেমনি স্থানীয় প্রশাসনেরও দায়িত্ব পালনে অনেক সুবিধা হবে।”
জেলা প্রশাসকদের এই যৌক্তিক দাবির সাথে একমত পোষণ করে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং রেগুলেশনের (নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা) কথা আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও সক্রিয়ভাবে ভাবা হচ্ছে। এটি সময়ের দাবি। আমরা খুব দ্রুতই এই নীতিমালা ও রেগুলেশন প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করব।”
এর আগে একই অধিবেশন শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও গণমাধ্যমের ডিজিটাল রূপান্তর এবং মাঠ পর্যায়ে মিস-ইনফরমেশন ও ডিস-ইনফরমেশন (গুজব ও অপপ্রচার) মোকাবিলায় ডিসিদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনের সমাপনী দিনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের এই সেশনটিকে ঘিরে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাঝে বেশ তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।