শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে: মামুনুল হক

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৮:২৬ অপরাহ্ণ
শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে: মামুনুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনার চূড়ান্ত বিচার ও জাতীয় স্বীকৃতি না হওয়া পর্যন্ত ন্যায়বিচারের সংগ্রাম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি এই কথা বলেন।

মাওলানা মামুনুল হক তাঁর স্ট্যাটাসে লেখেন, “২০১৩ সালের এই দিনে (৫ মে) একটি শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন নির্মম দমন-পীড়নের শিকার হয় এবং অসংখ্য নিরীহ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয় শাপলা চত্বর। সে রাতের স্মৃতি এখনো জাতির হৃদয়ে দগদগে ক্ষত হয়ে আছে এবং এই অধ্যায় ভুলে যাওয়ার নয়। বরং এটি জাতিaকে দায়বদ্ধতার কথা মনে করিয়ে দেয়।”

ভয়াবহ সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “৫ মে আমি গাবতলী পয়েন্টে নায়েবে আমিরের দায়িত্বে ছিলাম। পরে শাপলা চত্বরে জমায়েতের ঘোষণায় মিছিল নিয়ে শাপলা অভিমুখে ছুটি। মানুষের অনিঃশেষ এ যাত্রা দেখে মাথা খারাপ হয়ে যায় ফ্যাসিবাদী শক্তির। তারা হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরীহ মানুষের ওপর। রক্তে ভেসে যায় গুলিস্তান, জিরো পয়েন্ট, প্রেসক্লাব, পল্টন, দৈনিক বাংলা ও বিজয়নগরসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল। রাত ২টার পর হঠাৎ চারদিক ব্ল্যাকআউট (বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন) করে মুহুর্মুহু হামলা চালানো হয়। অস্ত্রের মুখে অসহায় হয়ে পড়ে নবীপ্রেমিক জনতা।”

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বিগত সরকারের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন এই ঘটনায় শহীদদের নিয়ে কোনো প্রামাণ্য কাজ বা তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ‘শাপলা স্মৃতি সংসদ’-এর মাধ্যমে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ চলছে।

এবার শাপলা চত্বরের স্মরণে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পাশাপাশি খেলাফত ছাত্র মজলিস, যুব মজলিস, ছাত্র শিবির, ছাত্র জমিয়ত, ইনকিলাব মঞ্চ, ডাকসু, চাকসু, রাকসু, এনসিপিসহ অনেক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। শাপলা স্মৃতি সংসদের আঞ্চলিক শাখাগুলো প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করছে।

তিনি এই কর্মসূচির সাথে যুক্ত সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই জাতীয় দায়বোধকে জাগ্রত করবে। ইতিহাসের এই ঋণ আমাদের সবাইকে শোধ করতে হবে। তবে এখনো অনেক পথ বাকি। জাতীয় স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে এই দায় পূর্ণ হবে না। শাপলার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই আমাদের অঙ্গীকার।”

মন্তব্য করুন