কান্নাভেজা মেসিকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরলেন ইয়ামাল
স্পোর্টস ডেস্ক : ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপানির্ধারণী মেগা ফাইনালটি ছিল মূলত দুই ভিন্ন প্রজন্মের দুই মহাতারকার রাজকীয় লড়াই। একদিকে ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি, অন্যদিকে স্পেনের ১৯ বছর বয়সী তরুণ বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল। ৯০ মিনিটের তীব্র লড়াই শেষে জয়ের হাসি হেসেছে স্প্যানিশরা। তবে ম্যাচ শেষের সমস্ত আলো ও আবেগ কেড়ে নিয়েছে এই দুই তারকার ঐতিহাসিক কোলাকুলি ও সৌজন্যের মুহূর্ত।
টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ভেস্তে যাওয়ায় ম্যাচ শেষে কান্না সংবরণ করতে পারেননি ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মাঠে একাকী বসে যখন হারের হতাশায় ডুবছিলেন মেসি, তখন মাঠজুড়ে চলছিল স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের বাঁধভাঙা আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
কিন্তু শিরোপা উদযাপনের চূড়ান্ত উন্মাদনার মাঝেই নিজের শৈশবের নায়ক ও অনুপ্রেরণাকে ভুলে যাননি তরুণ স্প্যানিশ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল। ট্রফি উৎসব থেকে কিছুটা সময় বের করে তিনি সোজা হেঁটে যান বিষণ্ন মেসির দিকে। ইয়ামালকে এগিয়ে আসতে দেখে মাঠ থেকে উঠে দাঁড়ান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এরপরই পরম শ্রদ্ধায় ও মমতায় একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরেন দুই প্রজন্মের এই দুই ফুটবল জাদুকর।
মুহূর্তটি ফুটবলপ্রেমীদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় ২০০৭ সালের সেই বহুল চর্চিত ও ঐতিহাসিক ছবির স্মৃতিকাতরতায়—যেখানে ইউনিসেফের এক সামাজিক প্রচারণার জন্য শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে গোসল করিয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন তরুণ বার্সেলোনা তারকা মেসি। বহু বছর পর বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে সেই শিশুই বিশ্বজয়ী হয়ে জড়িয়ে ধরলেন নিজের আইডলকে।
খেলার ধারায় ব্রাজিলের নেইমারকে অনুসরণ করলেও মেসির প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা সবসময়ই প্রকাশ করেছেন ইয়ামাল। ফাইনালের আগেও মেসিকে সর্বকালের সেরা হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে ম্যাচ শুরুর আগেই ইয়ামালের প্রশংসা করে মেসি বলেছিলেন, "ইয়ামাল এই সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার। সে ভালো করলে বার্সেলোনা ভালো করবে, তাই তার জন্য আমার শুভকামনা থাকবে।"
ফুটবলের জয়-পরাজয়ের সমীকরণকে ছাপিয়ে ফাইনালের পর দুই তারকার এই আলিঙ্গন চিরকাল ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় ও অমলিন মুহূর্ত হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।
|