কটিয়াদীতে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে নারীকে মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ
মিজানুর রহমান (কটিয়াদী প্রতিনিধি): কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ‘মেয়েধরা’ বা শিশু অপহরণকারী সন্দেহে এক নারীকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে উত্তেজিত জনতা। এ সময় ওই নারীর কবল থেকে ইলমা (৭) নামের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কটিয়াদী পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেথৈর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া ইলমা বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং বেথৈর এলাকার জামাল মিয়ার মেয়ে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ৬৩ নম্বর বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ইলমাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কালো বোরকা পরা এক নারী শিক্ষার্থী ইলমাকে তার বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে মিথ্যা তথ্য দেয় এবং তাকে ফুঁসলিয়ে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। সহপাঠীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং স্কুল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে পিপুলিয়া এলাকায় অটোরিকশাটির গতিরোধ করে শিশুটিকে উদ্ধার করে।
আটককৃত নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকে। এতে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করে বিদ্যালয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা পুনরায় হামলা চালায়। এতে ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের গাড়ির গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কটিয়াদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ জানান, পুলিশ হেফাজতে থাকা নারী নিজেকে বাজিতপুর উপজেলার প্রিয়া (২৫) বলে দাবি করলেও তার নাম-ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ ও তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এআইএল/সকালবেলা