টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে গণধর্ষণ: বাসচালক ও দুই সহকারীসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক নারী যাত্রীকে নৃশংসভাবে গণধর্ষণ ও স্বর্ণালংকারসহ সর্বস্ব লুটে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্ত চালক ও তাঁর দুই সহকারীসহ মোট তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আদালত।
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক আ.ন.ম. ইলিয়াস জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে বহুল আলোচিত এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সাভার পরিবহনের বাসচালক মো. আলতাফ (২৫), চালকের সহকারী মো. রাব্বি (২১) এবং বাসের কন্ডাক্টর সাগর ওরফে সজিব মাতাব্বর (২৪)। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে চালক আলতাফ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে; রাব্বি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে এবং কন্ডাক্টর সাগর ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চাঁদর হাট বাজারের চুন্নু মাতাব্বরের ছেলে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিজ্ঞ আদালত দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের সুনির্দিষ্ট আদেশ দেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ওমরাও খান দিপু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ধর্ষণের শিকার ওই ভুক্তভোগী নারী গত ১৪ জানুয়ারি রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে নিজ গন্তব্য আশুলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে 'সাভার পরিবহন'-এর একটি যাত্রীবাহী বাসে ওঠেন। পথিমধ্যে বাসের অন্যান্য যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যে নেমে গেলে বাসে ওই নারী একা হয়ে পড়েন। এই সুযোগে চলন্ত বাসের ভেতরের বাতি নিভিয়ে চালক ও তাঁর সহযোগীরা মিলে ওই নারীকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে।
একপর্যায়ে প্রাণনাশের তীব্র ভয় দেখিয়ে ওই নারী যাত্রীর কানের সোনার দুল, নগদ ৩৬ হাজার টাকা এবং তাঁর সাথে থাকা ব্যবহৃত মুঠোফোনটি ছিনতাই করে নেয় আসামিরা। অপরাধ আড়াল করতে পরবর্তীতে বাসটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে চক্কর দিতে থাকে।
ঘটনার পরদিন সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় বাসটি থামানো হলে ভুক্তভোগী নারী কৌশলে বের হয়ে সেখানে টহলরত হাইওয়ে পুলিশের কাছে সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বলেন। হাইওয়ে পুলিশ কালবিলম্ব না করে বাসসহ অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় ওই দিনই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সুনির্দিষ্ট ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও টাঙ্গাইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ভীক্টর ব্যানার্জী দীর্ঘ তদন্ত ও আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। মামলা চলাকালে মোট ১৫ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রামাণিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পরপরই কড়া পুলিশি পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।