ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোঃ বাপ্পি শেখ, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের বেসরকারি ‘শামীমা ক্লিনিকে’ চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় আসমা খাতুন (২৫) নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৮ দিনের নবজাতকটি মাতৃহারা হয়েছে, আর শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার।
নিহত আসমা খাতুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নরসিংহপুর (বিষয়খালি) এলাকার মোজাম্মেল হকের স্ত্রী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) আসমা খাতুনকে শামীমা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হয়। অপারেশনের পর তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। বুধবার পুনরায় তাকে ক্লিনিকে আনা হলে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই দীর্ঘ সময় শুধু অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয় বলে স্বজনরা অভিযোগ করেন। বুধবার রাত ১১টার দিকে আসমা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
নিহতের স্বামী মোজাম্মেল হক অভিযোগ করেন, আসমা মারা যাওয়ার পরও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তা গোপন রেখে রোগীকে ফরিদপুর রেফার করার নাটক সাজায়। পরে স্থানীয় এক ফার্মেসি মালিকের মাধ্যমে তারা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন। এ নিয়ে ক্লিনিকের ভেতরে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নিহতের পরিবারকে বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে রফাদফার চেষ্টা করে, যা পরিবারটি প্রত্যাখ্যান করেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোজাম্মেল হক বলেন, "ডাক্তারের অবহেলায় আমার স্ত্রী মারা গেছে। আমার ৮ দিনের বাচ্চাটা এতিম হয়ে গেল। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।"
অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিক মালিক ডা. শামীমা বলেন, "রোগী স্ট্রোক করে মারা গেছে। এর বেশি কিছু বলার নেই।"
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, একই দিনে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোবাহাটি গ্রামে আরেকটি সিজার অপারেশনে নবজাতকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একের পর এক এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ