পূবাইলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ১
পঙ্কজ সরকার নয়ন, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জ সংলগ্ন পূবাইল থানা এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বিলাস মজুমদার (২৮) নামে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার (২৪ মে) দুপুরে পূবাইল থানার মিরের বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত বিলাস মজুমদার কালীগঞ্জ উপজেলার বান্দাখলা এলাকার হরিদাস মজুমদারের ছেলে। আজ সোমবার (২৫ মে) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পূবাইল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিরের বাজার এলাকায় একদল ডাকাত পুলিশ পরিচয়ে বড় ধরনের ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে— এমন সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পূবাইল থানার এসআই (নিরস্ত্র) এহতেশাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ সেখানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাকিরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য বিলাস মজুমদারকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
এই ঘটনায় দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) ৩৯৯/৪০২ ধারায় পূবাইল থানায় একটি মামলা [মামলা নং-১২(০৫)২৬] দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত বিলাস একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর ও কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, দস্যুতা, ছিনতাই ও মাদকসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ আরও জানায়, অপরাধ জগতের পুরোনো খেলোয়াড় বিলাসের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও জিএমপির টঙ্গী পূর্ব থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২ ধারায় ডাকাতির প্রস্তুতির আরও একটি মামলা রয়েছে [এফআইআর নং-৩৭, জিআর নং-৮৭, তারিখ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫]।
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিলাস মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি এবং অপরাধ চক্রের হোতা হিসেবে পরিচিত। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ স্থানীয় জনতার হাতে হাতেনাতে আটক হয়েছিলেন বিলাস। তবে সে সময় এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের অনৈতিক মধ্যস্থতা ও সহযোগিতায় তিনি আইনি ব্যবস্থা এড়িয়ে পার পেয়ে যান বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। প্রভাবশালী মহলের আশকারা পেয়ে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “গ্রেপ্তারকৃত বিলাস মজুমদারের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির বিষয়টি স্বীকার করেছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে পূবাইল থানা পুলিশের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এআইএল/সকালবেলা