পটুয়াখালীতে ইমামকে ফাঁসাতে গিয়ে মিথ্যা মামলার বাদী কারাগারে

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
পটুয়াখালীতে ইমামকে ফাঁসাতে গিয়ে মিথ্যা মামলার বাদী কারাগারে
ইমামকে মিথ্যা মামলা জাহানারা বেগম গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটুয়াখালী: পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমামের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ও মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করে শেষ পর্যন্ত নিজেই ফেঁসে গেছেন জাহানারা বেগম নামের এক নারী। আদালতের নির্দেশে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ গত সোমবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করেছে।

মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী শহরের কলাতলা এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগম তাঁর দুই নাতিকে দিয়ে জেলা মডেল মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে চুরি করাতেন বলে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ১২ নভেম্বর তাঁর দুই নাতি মডেল মসজিদে চুরি করতে ঢুকলে খাদেম সাব্বির ও শাহ আলম (৭০) নামের এক বয়স্ক মুসল্লি তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এশার নামাজের পর বিষয়টি মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. তানভিরুল ইসলামকে জানানো হলে, ইমাম তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এবং সহকারী পুলিশ সুপারকে (সদর সার্কেল) অবহিত করেন।

খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে তাদের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় অভিভাবকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে মসজিদ কর্তৃপক্ষের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন জাহানারা বেগম। পেশ ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খাদেমদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তিনি মিথ্যা অভিযোগের অভিনব পরিকল্পনা করেন। ঘটনার ১৫ দিন পর স্থানীয় একটি হাসপাতালের ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পেশ ইমামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মনগড়া মামলা দায়ের করেন।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেন। পিবিআই নিবিড় তদন্তকালে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ, নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সাক্ষ্য এবং হাসপাতালের চিকিৎসকের রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে দেখতে পায় যে, অভিযোগেবর্ণিত ঘটনার কোনো সত্যতা নেই। গত ২৯ জুন আদালতে দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পিবিআই স্পষ্ট উল্লেখ করে যে, জাহানারার দায়ের করা অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

পরবর্তীতে গত ২৮ জুলাই মামলার শুনানির পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি করার অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় বাদী জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন বিচারক। আদালতের এই আদেশের প্রেক্ষিতে বিবাদীপক্ষ জাহানারার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিলে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে অভিযুক্ত জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার সকালে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন