মদনে বিয়ের প্রলোভনে সহকর্মীকে ধর্ষণ ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
মোঃ সাকের খান, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের অফিস সহায়ক এক নারীকে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণ ও প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই কলেজের অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান রুবেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা যায়, ২০১০ সালে অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান ও ভুক্তভোগী নারী একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কলেজে যোগদান করেন। প্রায় তিন বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান এবং এর মধ্যে হাফিজুর রহমান রুবেলের স্ত্রীও কাজের উদ্দেশ্যে প্রবাসে যান। এই সুযোগে রুবেল ওই নারীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিয়ের আশ্বাস দেন।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মোটরসাইকেল ও বাড়ি নির্মাণের কথা বলে ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন দফায় তাঁর কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেন রুবেল (যার মধ্যে ব্যাংক ঋণের জামিনদারও ছিলেন রুবেল)। পরবর্তীতে গত ১০ আগস্ট কলেজ ছুটির পর একটি কক্ষে নিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় কয়েকজন ঘটনাটি দেখে ফেলে এবং দুজনকে একসাথে ছবি তুলে রাখে। ঘটনাটি জানাজানি হলে কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আতিকুর রহমান পলাশকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. আজিজুল হক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জহিরুল হক আসলাম।
ভুক্তভোগী নারী জানান, “স্বামী না থাকার সুযোগে রুবেল বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে এবং বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেয়। গত ১০ তারিখেও সে কলেজের কক্ষে আমাকে নির্যাতন করে। এখন বিয়ে করতে অস্বীকার করছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও সামাজিক স্বীকৃতি চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান রুবেল বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিষয়টি আগেই অধ্যক্ষ স্যারের উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে সমাধান করে দেওয়া হয়েছিল। এখন আবার নতুন করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”
তদন্ত কমিটির প্রধান প্রভাষক আতিকুর রহমান পলাশ জানান, “অধ্যক্ষ স্যারের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন অধ্যক্ষের কাছে দাখিল করা হবে।”
কলেজের অধ্যক্ষ বিধান চন্দ্র মিত্র বলেন, “ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম জানান, এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
|