জামালপুরে আত্মগোপনে থেকে বেতন নেওয়ার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ণ
জামালপুরে আত্মগোপনে থেকে বেতন নেওয়ার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে
জামালপুরের মেলান্দহে নাছিমা মোজাহারুল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজ (ফাইল ছবি)।

মো. ইমরান মাহমুদ, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চরবানিপাকুড়িয়া ইউনিয়নের রায়ের বাকাই এলাকার নাছিমা মোজাহারুল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর এসব বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কলেজে অনুপস্থিত। তিনি জামালপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। বিগত সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। কিন্তু কর্মস্থলে কোনো ধরনের উপস্থিতি ছাড়াই তিনি নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

একই সাথে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়েও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি, কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী ভর্তি দেখানো হলেও বাস্তবে শ্রেণিকক্ষে কোনো ছাত্রছাত্রী থাকে না এবং শিক্ষকদের উপস্থিতিও নিয়মিত নয়।

রায়ের বাকাই এলাকার বাসিন্দা হৃদয় আহমেদ বলেন, “কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেখে আসছি এখানে শিক্ষার্থী থাকে না। শুধু কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী দেখানো হয়, কোনো ক্লাস হয় না। শিক্ষকরাও অনিয়মিত। এমন পরিবেশে কীভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চলতে পারে?”

এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহনাজ পারভীন বলেন, “যাতায়াতের কারণে মাঝে মাঝে একটু দেরি হলেও আমরা নিয়মিত কলেজে আসি। তবে অধ্যক্ষ স্যারের অনুপস্থিতির বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না, তিনি আমাদের প্রধান।”

অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসেন আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মেলান্দহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদুর রহমান ভূঁইয়া জানান, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে নিয়মানুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা বলেন, “অধ্যক্ষের দীর্ঘ অনুপস্থিতির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে সরেজমিনে খোঁজখবর নিয়ে বিধি মোতাবেক দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মন্তব্য করুন