ভাগাড়ের নামে করতোয়ায় বর্জ্য, দূষণ-দুর্গন্ধে এলাকাবাসী নাকাল

প্রকাশ: রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ণ
ভাগাড়ের নামে করতোয়ায় বর্জ্য, দূষণ-দুর্গন্ধে এলাকাবাসী নাকাল

ওয়াফিক শিপলু (বগুড়া প্রতিনিধি): বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া মহিষবাথান গ্রামের মানুষ কয়েক বছর আগেও করতোয়া নদীর পানি পান ও গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করতেন। তবে সময় বদলেছে। সেই করতোয়া নদীর পানি এখন ব্যবহারের অনুপযোগী, আর নদী থেকে ভেসে আসা উৎকট দুর্গন্ধে ঘরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রতিদিনের প্রায় ২০০ টন বর্জ্য অনিয়ন্ত্রিতভাবে ফেলা হচ্ছে করতোয়া নদীর পাড়ের একটি খোলা ভাগাড়ে। অভিযোগ উঠেছে, ভাগাড়ের নামে জমা করা এসব ময়লা-আবর্জনা এস্কেভেটর ও ড্রোজার দিয়ে সরাসরি নদীতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি বাঘোপাড়া মহিষবাথান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সিটি করপোরেশনের বর্জ্যবাহী ট্রাকগুলো ময়লা এনে নদীর পাড়ে ফেলছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তা নদীর দিকে ঠেলে দেওয়ায় আর্বজনা মিশে পানি বিষাক্ত ও কুচকুচে কালো রূপ ধারণ করেছে।

অথচ নদী বা জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পরিবেশ অধিদপ্তরের ২০২১ সালের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালার ৭ ও ১০ বিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বর্জ্য অপসারণ ও ভূমি ভরাটের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর রাজশাহী বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর নদী দূষণকারী হিসেবে তৎকালীন বগুড়া পৌরসভাকে নোটিশ পাঠালেও বর্জ্য ফেলা বন্ধ হয়নি।

মহিষবাথান গ্রামের ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ আব্দুল বারী আক্ষেপ করে বলেন, “আগে এই নদীর পানি আমরা পান করতাম। এখন দুর্গন্ধের কারণে নদীর কাছে যাওয়াই দায়।” স্থানীয় গৃহিণী জহুরা খাতুন ও শ্যামল নামের এক যুবক জানান, অনবরত ময়লা ফেলার কারণে নদীর তলদেশে বর্জ্যের স্তূপ জমেছে। এতে নদীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মৎস্যজীবীরা বেকার হয়ে পড়েছেন।

সিটি করপোরেশনের ট্রাকচালকেরা জানান, প্রতিদিন ২৪টি ট্রাকে প্রায় ২০০ টন বর্জ্য এই স্থানে ফেলা হয়। এসকেভেটরচালক খোরশেদ আলম দাবি করেন, সরাসরি নদীতে ময়লা ফেলা হয় না, তবে কাজ করার সময় কিছু বর্জ্য গড়িয়ে পানিতে পড়তে পারে।

পরিবেশ অধিদপ্তর বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহাথির বিন মোহাম্মদ বলেন, “খোলা জায়গায় বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন তৈরির জন্য সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জানান, সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় আপাতত বেসরকারি সংস্থা টিএমএসএসের নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। তবে নদীতে যেন বর্জ্য না পড়ে, সে ব্যাপারে কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এআইএল/সকালবেলা