ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
সামজাদ জসি, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের রাজনীতিতে হঠাৎ বইতে শুরু করেছে অস্থিরতার হাওয়া। পরিস্থিতি কিংবা রাজনৈতিক কৌশলের মারপ্যাঁচে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মাস্টারকে এখন একে অপরের মুখোমুখি ও প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলেও তিনি এখন পুরো আসনের অভিভাবক। অন্যদিকে, আনোয়ার হোসেন মাস্টার সরাইলের রাজনীতিতে একজন পরীক্ষিত নেতা ও জনকল্যাণে নিবেদিত অভিভাবক হিসেবে পরিচিত। গত উপজেলা নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত মেনে তিনি নির্বাচন থেকে বিরত থাকলেও, আসন্ন নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে শক্ত প্রার্থী—এটা সরাইলবাসীর কাছে স্পষ্ট। ঠিক এই সময়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে আনোয়ার হোসেন মাস্টারকে একটি মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে, যা তাঁর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। দলের সুদিন ও দুর্দিন উভয় সময়ে সক্রিয় থাকা এই নেতার এমন পরিণতি কারোরই কাম্য ছিল না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ কাজ করছে। সরাইলের মানুষ রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কুফল সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন। ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে প্রয়াত ইকবাল আজাদের জীবনহানি এবং প্রভাবশালী নেতাদের কারাবরণের ঘটনা সরাইলবাসী ভোলেনি। বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ যদি আবারও সেই সংঘাতের দিকে মোড় নেয়, তবে সাধারণ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সরাইলের বৃহৎ স্বার্থে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং আনোয়ার হোসেন মাস্টারকে সহাবস্থানে আসা প্রয়োজন। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত দুজন দুজনের অবস্থান থেকে শান্তিপূর্ণভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক চর্চা চালিয়ে যাওয়া উচিত। সংসদ সদস্যকে যেমন তাঁর কাজ করার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দিতে হবে, তেমনি আনোয়ার হোসেন মাস্টারকেও তাঁর নির্বাচনের মাঠ গুছানোর সুযোগ দিতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের মতে, উভয় নেতার আশেপাশে থাকা নেতাকর্মীদের উচিত উস্কানি পরিহার করে শান্তি বজায় রাখা। হিংসাত্মক মনোভাব ত্যাগ করে সরাইলে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখাই এখন সময়ের দাবি।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ