ডোমারে ‘ঈদু’র বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ

প্রকাশ: রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ণ
ডোমারে ‘ঈদু’র বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি বাজারের ময়দানপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ‘ঈদু’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাদক সেবন ও কারবারের অভিযোগে এলাকায় পরিচিত এই ব্যক্তির রয়েছে শক্তিশালী একটি নেটওয়ার্ক। নানা কৌশলে মাদক সরবরাহ ও বিক্রি চালিয়ে যাওয়ার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদু চিলাহাটি বাজারের ময়দানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা বুলু মুরগির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঈদু দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদক কেনাবেচার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার সঙ্গে এলাকার বাইরে থাকা আরও কয়েকজনের যোগাযোগ রয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাদক সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হয় বলে দাবি তাদের।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হলেও ঈদুকে এখন পর্যন্ত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। ফলে তার কথিত নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। বিভিন্ন বয়সী তরুণ ও যুবকদের মধ্যে মাদকের বিস্তার ঘটায় অভিভাবকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, মাদকের প্রভাবে চিলাহাটির বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। বিশেষ করে কিশোর ও যুবকদের একটি অংশ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ায় তাদের শিক্ষা, কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তরুণদের কেউ কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, “ঈদুর মাদক কারবারের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। তার সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখে এবং কোথা থেকে মাদক আসে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। শুধু একজনকে আটক করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, এর পেছনে থাকা পুরো চক্রকে শনাক্ত করতে হবে।”

আরেক বাসিন্দা বলেন, মাদকের কারণে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থানে অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা ও সন্দেহজনক চলাচল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

সচেতন মহলের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুধু অভিযান চালালেই হবে না, তাদের সহযোগী, সরবরাহকারী ও অর্থের উৎসও শনাক্ত করতে হবে। পাশাপাশি মাদক সেবনকারীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আওতায় এনে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এলাকাবাসী চিলাহাটি বাজার ও ময়দানপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের গতিবিধি নজরদারি এবং মাদক সরবরাহের সম্ভাব্য উৎস শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কথিত শক্তিশালী নেটওয়ার্কের সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, চিলাহাটিতে মাদকের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাদের মতে, একটি প্রজন্মকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে এখনই কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এআইএল/সকালবেলা