অপ্রতিমের বাবার দোকানের নতুন ডেলিভারিম্যানই তার ঘাতক ফাহাদ

প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
অপ্রতিমের বাবার দোকানের নতুন ডেলিভারিম্যানই তার ঘাতক ফাহাদ
ঘাতক মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ এবং নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে এবং ১৩ বছর বয়সি কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান আসামি মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ছিলেন খোদ অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের মোবাইল সরঞ্জামাদির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একজন ডেলিভারিম্যান।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ১৪ হাজার টাকা মাসিক বেতনে অপ্রতিমের বাবার কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট মার্কেটের ‘ইয়েসটেক’ নামক শোরুমে ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন ফাহাদ। তবে এর মধ্যে তার সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র সম্পন্ন হয়নি। অপ্রতিমের বাসা কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায় এবং ঘাতক ফাহাদের বাড়িও কাছাকাছি এলাকায় হওয়ায় বাবা-মায়ের অনুরোধেই তাকে এই চাকরি দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, একটি দামি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মূল পরিকল্পনাকারী সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) প্রথমে বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমকে মাথায় আঘাত করেন। এর পরপরই ফাহাদ এবং অপর সহযোগী মো. কামরুল হাসানও (১৬) উপর্যুপরি আঘাত করে অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে।

অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার গণমাধ্যমকে জানান, ফাহাদকে তারা বিশ্বাস করে কাজে নিয়েছিলেন এবং তার সঙ্গে অপ্রতিমের কোনো বিরোধ ছিল না। এমনকি ঘটনার দিনসন্ধ্যায় অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর ফাহাদকে ডেকে আনা হয় এবং সে নিজেই ইন্টারনেট গ্রুপে নিখোঁজের বিষয়টি লিখে অন্যদের সঙ্গে খোঁজাখুঁজিতে অংশ নেয়। অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ঘাতক ফাহাদ ও তুহিন পরদিন সকালে অপ্রতিমের বাসায় এসে শোকসন্তপ্ত বাবা-মাকে সান্ত্বনাও দিয়ে যায়।

এদিকে তদন্তে আরও জানা গেছে, আইফোনের পাশাপাশি ফাহাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পাঁচ হাজার টাকা ধার নেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি আর্থিক বিরোধও তৈরি হয়েছিল, যা নিয়ে ফাহাদ মনে মনে ক্ষিপ্ত ছিল।

পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল পরিকল্পনাকারী তুহিনকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একে একে ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অপ্রতিমের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজেদের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন