সবচেয়ে কম সদস্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ণ
সবচেয়ে কম সদস্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে (সংগৃহীত ছবি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সশরীরে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে তার্কিশ এয়ারওয়েজের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। বর্তমান সরকারের মেয়াদে এটিই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথম উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সফরে চারজন মন্ত্রীসহ মোট ৩৫ সদস্যের একটি компакт বা সংক্ষিপ্ত প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে। প্রতিনিধিদলে থাকা চার মন্ত্রী হলেন—অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত। এর মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ইতিপূর্বেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় বর্তমানে নিউইয়র্ক থেকেই এই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।

এর আগে গত রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি ও অন্যান্য দিক তুলে ধরে জানান, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে সাধারণ পরিষদের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করবেন। ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সুশাসন, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।

সফরের অন্যান্য কর্মসূচির বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব জানান, নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও ব্যস্ততা শুরু হবে। ওই দিন সকালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য আয়োজিত স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন এবং পরবর্তীতে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। একই দিন সন্ধ্যায় মার্কিন রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বিশ্বনেতাদের সম্মানে আয়োজিত বিশেষ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও তাঁর যোগদানের কথা রয়েছে।

পরের দিন ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। এরপর ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য রাখবেন। ওই দিন বিকেলে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের প্লেনারি সেশনেও অংশ নেবেন। অধিবেশনের ফাঁকে সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের প্রতিনিধিদলের আকার অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও ব্যয়সংকোচী হওয়ায় এটি বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মাত্র ৩৫ জনের এই সংক্ষিপ্ত প্রতিনিধিদল নিয়ে নিউইয়র্ক সফর করছেন। অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে শত শত সদস্যের বড় বহর যাওয়ার নজির রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও দুটি অধিবেশনে যথাক্রমে ৫৭ ও ৬২ জন সদস্যের প্রতিনিধিদল গিয়েছিল। এছাড়া বিগত বছরগুলোতে শেখ হাসিনার আমলে এই বহরের আকার ছিল ২২৭, ১৭৮ কিংবা ১৩৪ জনের অধিক। করোনা-পূর্ববর্তী সময়ে এই সংখ্যা তিন শতাধিক ছাড়িয়ে যাওয়ার রেকর্ডও রয়েছে।

তবে বর্তমান সরকারের এই সংক্ষিপ্ত প্রতিনিধিদলে ক্ষমতাসীন দলের বাইরেও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। প্রতিনিধিদলে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব ড. গোলাম মহিউদ্দিনের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব জানান, নিউইয়র্কের যাবতীয় কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মন্তব্য করুন