ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তাজুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় এবারও লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারা। বর্তমানে লিচুর মুকুলে ছেয়ে গেছে বাগানগুলো, আর সেই মুকুল রক্ষায় দিন-রাত বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন লিচু চাষিরা। তবে জেলায় একটি লিচু সংরক্ষণের বিশেষায়িত হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
দিনাজপুর জেলাজুড়েই সুস্বাদু ও উন্নতমানের লিচুর আবাদ হয়, যার চাহিদা দেশজুড়ে। বিশেষ করে বিরল উপজেলার মাধববাটী ও রবিপুর এলাকায় দেশের উৎকৃষ্টমানের লিচু উৎপাদিত হয়। এছাড়া সদর উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়ির ভিটা ও আঙিনায় লিচুর গাছ দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিক লাভের আশায় চাষিরা গাছের গোড়ায় পানি দিচ্ছেন এবং মুকুল যেন ঝরে না পড়ে সেজন্য পোকা দমনে স্প্রে করছেন।
লিচু চাষি রেজাউল করিম বলেন, "গতবারের তুলনায় এবারও গাছে গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। মুকুল যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য আমরা নিয়মিত ওষুধ ছিটাচ্ছি ও গোড়ায় পানি দিচ্ছি। তবে আমাদের বড় সমস্যা হলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। লিচুর মৌসুমে খুব অল্প সময়ে লিচু বিক্রি করতে হয়। যদি কয়েক মাস লিচু সংরক্ষণ করে রাখতে পারতাম, তবে আমরা অনেক বেশি লাভবান হতে পারতাম। সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি, এখানে যেন একটি হিমাগার স্থাপন করা হয়।"
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানান, বিরল উপজেলায় এবার ২ হাজার ৫৫৮ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হচ্ছে। এখানে মূলত বোম্বাই, মাদ্রাজ, বেদানা, চায়না-থ্রি, চায়না-টু ও কাঁঠালি জাতের লিচুর ফলন ভালো হয়। তিনি আরও বলেন, "প্রতিটি গাছে লিচুর মুকুল দেখা দিয়েছে। মুকুল ও গুটি যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও তদারকি করা হচ্ছে।"
কৃষকদের মতে, লিচু অত্যন্ত পচনশীল ফল হওয়ায় হিমাগার না থাকায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ লিচু নষ্ট হয়, যা উৎপাদনকারীদের বড় ক্ষতির মুখে ফেলে। একটি স্থায়ী সংরক্ষণাগার হলে দিনাজপুরের এই ব্র্যান্ডিং পণ্যটি বিদেশের বাজারে রপ্তানি করে আরও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ