বরিশালে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে ৭ দফা দাবি

প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ণ
বরিশালে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে ৭ দফা দাবি
বরিশালে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুযোগ ও সম্ভাবনা শীর্ষক আলোচনা সভা (ফাইল ছবি)।

সাঈদ পান্থ, বরিশাল: ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বরিশালে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ দ্রুত সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বরিশাল বিডিএস ক্লাবে ‘ছাদ ভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুযোগ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-বরিশাল, প্রান্তজন, কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (CLEAN) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BWGED)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিভাগীয় প্রতিবেশ উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক গাজী জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম প্রকৌশলী জাহিদা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহিলা পরিষদের সভাপতি পুষ্পরানি চক্রবর্তী এবং বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের সদস্য সচিব সুভাষ চন্দ্র দাস।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে পেশকৃত ৭ দফা দাবি: ১. ভর্তুকি প্রদান: ব্যক্তিগত পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে প্রতি কিলোওয়াটে ২৫ হাজার টাকা ভর্তুকি প্রদান এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি সুনিশ্চিত করতে নারী ও আদিবাসীদের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ভর্তুকি বরাদ্দ করা। ২. আইনি বাধ্যবাধকতা: শিল্প-কারখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি এই কাজে উৎসাহমূলক আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া। ৩. বিশেষ তহবিল গঠন: ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ ক্ষুদ্র নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠন করা। এই তহবিল পরিচালনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কোনো সুদ নেবে না এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদ নেবে—এমন প্রস্তাব রাখা হয়। ৪. কর অব্যাহতি: ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক, কর এবং মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা। ৫. গ্রিড সুবিধা সহজীকরণ: নেট-মিটারিং প্রক্রিয়া সহজ ও পুরোপুরি গ্রাহকবান্ধব করার মাধ্যমে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্যে আধুনিক স্মার্ট গ্রিড অবকাঠামো গড়ে তোলা। ৬. ছাদের সদ্ব্যবহার ও প্রশিক্ষণ: ‘জমি স্বল্পতার’ অজুহাত পরিহার করে দেশের সব অব্যবহৃত ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আওতায় এনে জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জন করা এবং এই খাতে তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ৭. সচেতনতা বৃদ্ধি: স্থানীয় পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সোলার সিস্টেমের সুফল সম্পর্কে গণসচেতনতা তৈরি করা এবং কারিগরি সহায়তা সহজলভ্য করা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বহুতল ভবন এবং অন্যান্য স্থাপনার অব্যবহৃত ছাদকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে একদিকে যেমন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

মন্তব্য করুন