ফেনীর দুই কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দি: চরম আবাসন ও ব্যবস্থাপনায় সংকট
ফেনী প্রতিনিধি: ফেনী জেলার দুটি কারাগারে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি গাদাগাদি করে অবস্থান করছেন। এর ফলে কারাগার দুটির আবাসন ব্যবস্থা ছাড়াও খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, চিকিৎসা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ফেনীর দুটি কারাগার থেকে প্রাপ্ত পৃথক তথ্য অনুযায়ী, ফেনী-১ ও ফেনী-২ কারাগারে মোট ৫৬৪ জন বন্দি ধারণের নির্ধারিত জায়গা রয়েছে। অথচ বর্তমানে সেখানে বন্দি রয়েছেন ১ হাজার ৪৪ জন। অর্থাৎ, নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত ৪৮০ জন বন্দি নিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে কারাগার দুটির কার্যক্রম। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১০০ জনের নির্ধারিত জায়গায় বর্তমানে প্রায় ১৮৫ জন বন্দি অবস্থান করছেন।
ফেনী-২ কারাগারে বন্দির চাপ সবচেয়ে বেশি: প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ফেনীর দুটি কারাগারের মধ্যে ফেনী-২ কারাগারে বন্দির চাপ সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মাত্র ১৭২ জনের ধারণক্ষমতার এই কারাগারে বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ৪৫৩ জন। অর্থাৎ, এখানে অতিরিক্ত বন্দির সংখ্যা ২৮১ জন। শতকরা হিসেবে এটি ধারণক্ষমতার প্রায় ২৬৩ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের জন্য নির্ধারিত জায়গায় রয়েছে প্রায় ২৬৩ জন।
কারা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফেনী-২ কারাগারে বন্দিদের একটি বড় অংশই মাদকসংক্রান্ত মামলার আসামি। তবে বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দির সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ফেনী-১ কারাগারে বন্দি ৫৯১ জন: অন্যদিকে, ফেনী-১ কারাগারে ৩৯২ জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ৫৯১ জন। এখানে অতিরিক্ত বন্দির সংখ্যা ১৯৯ জন, যা ধারণক্ষমতার প্রায় ১৫১ শতাংশ।
ফেনী-১ কারাগারের জেলার কাজী মাজাহারুল ইসলাম এবং ফেনী-২ কারাগারের জেলার ফেরদৌস মিঞা নিজ নিজ কারাগারের বর্তমান বন্দি সংখ্যা ও ধারণক্ষমতার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানান, কারাগারে নতুন বন্দির আগমন, আদালতের মাধ্যমে জামিন লাভ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি কিংবা বন্দি স্থানান্তরের কারণে এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল।
কারা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত এই বিশাল সংখ্যক বন্দির মৌলিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জেল কর্তৃপক্ষের জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। একই অবকাঠামো ও সীমিত জনবল দিয়ে অতিরিক্ত বন্দিদের ব্যবস্থাপনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।