আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক কষ্ট সামলানোর ৬টি কার্যকর উপায়
অনলাইন ডেস্ক: েযেকোনো আঘাত, ব্যর্থতা বা ক্ষতি সহ্য করার পর মানসিকভাবে ভারাক্রান্ত বোধ করা মানুষের একটি সহজাত প্রবণতা। তবে অনুভূতিকে চেপে রেখে নীরবে কষ্ট পাওয়া দীর্ঘমেয়াদে মানসিকভাবে অসুস্থ করে তোলে। দীর্ঘস্থায়ী এই মানসিক অশান্তি পরবর্তী সময়ে ছোটখাটো বিষয়গুলোতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে মানসিক আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও ভেতরের স্বস্তি ফেরানোর ৬টি কার্যকর কৌশল তুলে ধরা হয়েছে:
১. প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে পর্যবেক্ষণ করা:তীব্র অনুভূতির মুখে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে নিজেকে খানিকটা বিরতি দিন। প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে নিজের ভেতরে কী পরিবর্তন হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করুন। এই ছোট্ট বিরতি সঠিক প্রতিক্রিয়া বেছে নিতে সাহায্য করবে।
২. অনুভূতির নির্দিষ্ট নাম দেওয়া: সবকিছুর উত্তর শুধু 'খারাপ লাগছে' না বলে ঠিক কী কারণে খারাপ লাগছে তা চিহ্নিত করুন। আপনি কি রাগান্বিত, হতাশ, নাকি ব্যথিত? অনুভূতি নির্দিষ্ট করতে পারলে তার তীব্রতা অর্ধেক কমে যায়।
৩. মনোযোগ অন্যত্র ডাইভার্ট করা:যখন একঘেয়ে চিন্তা বা দুঃখ চেপে বসে, তখন চারপাশের বাস্তবতায় মনোযোগ দিন। আকাশের দিকে তাকানো, মাটিতে পায়ের স্পর্শ কিংবা বাইরের কোনো শব্দে মন দিন। এটি বারবার একই চিন্তার চক্র ভাঙতে সাহায্য করে।
৪. ধীর ও নিয়ন্ত্রিত শ্বাস গণনার চেষ্টা:মাথার ভেতরে এলোমেলো চিন্তা ঘুরতে থাকলে শ্বাসপ্রশ্বাসের ওপর নজর দিন। ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার মাধ্যমে গণনার অভ্যাস আপনার স্নায়ুকে শিথিল করে তোলে এবং তাৎক্ষণিক মানসিক চাপ কমায়।
৫. মাইক্রো মেডিটেশন অভ্যাস করা:দীর্ঘ সময় ধরে ধ্যান করার সুযোগ না হলেও কাজের ফাঁকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য চোখ বন্ধ করে দীর্ঘ ও গভীর কয়েকটি শ্বাস নিন। এটি তাৎক্ষণিক উদ্বেগ থেকে মনকে সরিয়ে ইতিবাচক হতে সাহায্য করে।
৬. নিজের সঠিক সীমা নির্ধারণ (বা 'না' বলতে শেখা):অন্যদের পেছনে অতিরিক্ত সময় ও শক্তি ব্যয় করতে গিয়ে নিজের মানসিক সুস্থতাকে জলাঞ্জলি দেবেন না। যা আপনার জন্য ক্ষতিকর বা উপযোগী নয়, তার বিরুদ্ধে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই 'না' বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন।