কোনো শিশুই শিক্ষার বাইরে থাকবে না: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী

প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ণ
কোনো শিশুই শিক্ষার বাইরে থাকবে না: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন (ফাইল ছবি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশেষ শিশু হোক কিংবা স্বাভাবিক শিশু—দেশের কোনো শিশুই শিক্ষার বাইরে থাকতে পারবে না বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি। বর্তমান সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যেখানে নবজাতক থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিক পর্যন্ত সমাজের প্রতিটি স্তরকে একটি সুনির্দিষ্ট সুরক্ষার ছাতার নিচে নিয়ে আসা হবে।

আজ বুধবার ৮ আশ্বিন (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানী ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইসফেনদিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘লিডো বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘Young Journalist Changemakers: Voice for Vulnerable Children’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শিশুদের নৈতিক শিক্ষা ও পারিবারিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “একটি শিশুকে সত্যিকারের মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তার পারিবারিক আঙিনা থেকেই নৈতিক শিক্ষার মূল ভিত তৈরি করতে হবে। পরিবারহীন ও পথশিশুদের নিরাপদ সুরক্ষা এবং তাদের যথাযথ পুনর্বাসনে সরকার বর্তমানে বিভিন্ন ছোটমণি নিবাস ও শিশু নিবাস পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপদ আশ্রয় ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের উপযোগী বিভিন্ন কার্যকরী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।” যেকোনো জনকল্যাণমূলক সামাজিক উদ্যোগকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা সরকারের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সরকার ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “সরকার দেশের কোনো মানুষের প্রতিপক্ষ নয়; বরং সরকার ও জনগণ একে অন্যের পরিপূরক ও সম্পূরক শক্তি। এ সময় তিনি দেশের অগ্রযাত্রায় সংকীর্ণ রাজনৈতিক বা সামাজিক সমালোচনা পরিহার করে বিদ্যমান সামর্থ্য ও সম্পদের সর্বোত্তম সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে সবাইকে একযোগে দেশসেবায় এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের আকর্ষণীয় পর্বে শিশুদের নিয়ে আয়োজিত এক মুক্ত প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে শিশুরা সরাসরি মন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে তাদের দৈনন্দিন নানা সমস্যা ও সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো তুলে ধরে। বিশেষ করে অভিভাবকহীন শিশুরা জন্মনিবন্ধন সনদ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে সমস্ত প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়, তা দ্রুত নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানালে মন্ত্রী অত্যন্ত ধৈর্য ও সহমর্মিতার সঙ্গে শিশুদের প্রতিটি কথা শোনেন এবং উদ্ভূত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও জোরালো আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে একদল নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও মানবাধিকার কর্মীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (লিডো) দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পথশিশু, নির্যাতিত ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিরাপদ আশ্রয় এবং জরুরি মানবিক সেবা প্রদান করে আসছে। শিশুদের সার্বিক বিকাশকে জাতির অগ্রগতির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে সংস্থাটি তাৎক্ষণিক সুরক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার মাধ্যমে পথশিশুদের মানবিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব, এসওএস চিলড্রেন ভিলেজের কান্ট্রি ডিরেক্টর, সেভ দ্য চিলড্রেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক সুবিধাবঞ্চিত শিশু উপস্থিত ছিল।

মন্তব্য করুন