মাদারীপুরে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১০

মাদারীপুরে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১০

মাদারীপুর প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া ও দলটির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের কালির বাজারে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেল্লাল বেপারি ও অ্যাডভোকেট মহিদুল মাতুব্বরের নাম জানা গেলেও বাকি আটজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে কলস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য তার সমর্থকদের নিয়ে কালির বাজার এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ করছিলেন। একই সময়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়ার সমর্থকরাও সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে এলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলেও মুহূর্তের মধ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় কালির বাজার এলাকা। সংঘর্ষে গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে এবং বাকিদের মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করেছে। ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যর কর্মীরা তাদের নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করেছে এবং ধানের শীষের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলেছে। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, তার নির্বাচনী অবস্থান ভালো দেখে ধানের শীষের প্রার্থীর লেলিয়ে দেওয়া কর্মীরা তার ও তার সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, র‍্যাব এবং পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর থেকে কালির বাজার ও আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

এন.জে/সকালবেলা

মন্তব্য করুন