যাত্রাবাড়ীতে লেগুনা চালককে পিটিয়ে হত্যা: নেপথ্যে চাঁদাবাজি

যাত্রাবাড়ীতে লেগুনা চালককে পিটিয়ে হত্যা: নেপথ্যে চাঁদাবাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোড রুটে লেগুনা চালানোকে কেন্দ্র করে খায়রুল (৩৫) নামে এক চালককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে যাত্রাবাড়ীর সুফিয়া গার্মেন্ট সংলগ্ন লেগুনা স্ট্যান্ডে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ৮ জনসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে শনিবার যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় লেগুনা চালকরা অভিযোগ করেছেন, এই রুটে চলাচলকারী প্রতিটি লেগুনা থেকে ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশ এবং লাইনম্যানের নামে মাসিক ও দৈনিক ভিত্তিতে বড় অঙ্কের চাঁদা আদায় করা হয়। এই চাঁদাবাজির আধিপত্য ও চাঁদা দিতে অস্বীকার করাতেই খায়রুলকে প্রাণ দিতে হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডটি চাঁদাবাজির জন্য নয়; বরং স্ট্যান্ডে সিরিয়াল ভেঙে যাত্রী উঠানোকে কেন্দ্র করে দুই চালকের মধ্যকার বিরোধের জেরে ঘটেছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে চিটাগাং রোড স্ট্যান্ডে সিরিয়াল ছাড়া জোরপূর্বক যাত্রী উঠাতে থাকেন চালক হৃদয়। খায়রুল এর প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হৃদয় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাত্রাবাড়ী চলে যায়। পরে খায়রুল যাত্রাবাড়ী স্ট্যান্ডে পৌঁছামাত্র হৃদয়ের নেতৃত্বে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী তাকে ঘিরে ধরে বেদম মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত খায়রুলের বাড়ি শরীয়তপুরের সখিপুরে। মাত্র দেড় মাস আগে জীবিকার তাগিদে তিনি ভাড়ায় লেগুনা চালানো শুরু করেছিলেন। তাঁর ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি এখন ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই রুটে লেগুনা চলাচল বন্ধ রেখে বিচার দাবি করেন সাধারণ চালকরা।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে চাঁদাবাজির বিষয়টি বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন