প্রচারণার শেষ প্রহরে বগুড়ায় দাঁড়িপাল্লার জনউচ্ছ্বাস: রাজপথে হাজারো মানুষের ঢল

প্রচারণার শেষ প্রহরে বগুড়ায় দাঁড়িপাল্লার জনউচ্ছ্বাস: রাজপথে হাজারো মানুষের ঢল

ওয়াফিক শিপলু, বগুড়া: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনে বগুড়া শহরে বড় ধরণের শক্তি প্রদর্শন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেলের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল গণমিছিলে জনতার ঢল নামে। হাজার হাজার মানুষের এই অংশগ্রহণে মুহূর্তেই স্থবির হয়ে পড়ে উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র বগুড়া শহর।

গণমিছিল শুরুর আগে বগুড়া পৌর পার্কে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া-৬ সদর আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল। তিনি বগুড়াবাসীকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশ সংস্কারের যে স্বপ্ন আমরা দেখছি, তা বাস্তবায়নের জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। বগুড়ার মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে তাদের রায় দেবে।”

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম বেগ। এছাড়া শহর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আ.স.ম আব্দুল মালেক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক রফিকুল আলম এবং ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া শহর শাখার সভাপতি হাবিবুল্লাহ খন্দকারসহ জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দুর্নীতিমুক্ত ও নৈতিক সমাজ গঠনে জামায়াত প্রার্থীর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

সমাবেশ শেষে পৌর পার্ক থেকে এক বিশাল গণমিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান কেন্দ্র সাতমাথা, বড়গোলা, কাঁঠালতলা ও নবাববাড়ী সড়ক হয়ে জলেশ্বরীতলা অতিক্রম করে পুনরায় পৌর পার্কে এসে শেষ হয়। আয়োজকদের দাবি, এই মিছিলে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। মিছিল চলাকালীন পুরো শহর জুড়ে এক উৎসবমুখর আমেজ লক্ষ্য করা যায়, তবে বিপুল জনসমাগমের কারণে প্রধান সড়কগুলোতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

বগুড়া-৬ আসনে এবার লড়াই হচ্ছে বহুমুখী। এই আসনে জামায়াত প্রার্থীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভোটের মাত্র তিন দিন আগে জামায়াতের এই বিশাল শোডাউন সদর আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য করুন