গাছে গাছে আমের মুকুলের সমারোহ, সপ্তাহখানেক বাদেই মিলবে গুটি

গাছে গাছে আমের মুকুলের সমারোহ, সপ্তাহখানেক বাদেই মিলবে গুটি

মহিউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক: পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের সেই চিরায়ত কবিতার পঙক্তি— ‘ঝড়ের দিনে মামার দেশে / আম কুড়াতে সুখ...’। সেই সুখের দিনগুলো ফিরে পেতে বাকি আর মাত্র মাস কয়েক। তবে মধুমাসের আগমনী বার্তা এরই মধ্যে প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে। গাজীপুরের শ্রীপুরে এখন চারদিকে আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ আর হলুদ-সবুজের মিতালি।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় ও মাঝারি সব ধরনের আম গাছেই শোভা পাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত মুকুল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর মুকুলের সমারোহ বেশ ভালো। বিশেষ করে বাড়িঘরের আঙিনায় লাগানো ছোট ও মাঝারি আকারের গাছগুলো মুকুলে ছেয়ে আছে। প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য ও মুকুলের সুবাসিত ঘ্রাণ মানুষের মনকে বিমোহিত করছে।

গাছের মালিকেরা জানান, মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুলকে রোগবালাই ও কুয়াশার হাত থেকে রক্ষা করতে তারা স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন তাঁরা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব মুকুল থেকে আমের গুটি দৃশ্যমান হতে শুরু করবে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, এ অঞ্চলে বড় বড় বাণিজ্যিক আম বাগান কম থাকলেও প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ফলনশীল আম গাছ রয়েছে। তিনি বলেন, “গাছে আমের গুটি আসার পরপরই অন্তত দুবার ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে গুটি ঝরে পড়া বন্ধ হবে এবং আম পোকামুক্ত থাকবে। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন।”

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর শ্রীপুর উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া এমন থাকলে এবার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার আম বাইরের বাজারেও বেশ প্রভাব ফেলবে।

এম.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন