ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মহসিন মিয়া, নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মগড়া নদীর ওপর নির্মিত হচ্ছে জেলার প্রথম দৃষ্টিনন্দন ‘আর্চ আরসিসি ব্রিজ’। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজের স্থাপত্যশৈলীর আদলে তৈরি এই সেতুটি জেলা শহরের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন এবং রৌহা ইউনিয়নবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে এক অনন্য মাইলফলক হতে যাচ্ছে। প্রায় ২২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে; সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাসেই এটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
নেত্রকোনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সাকুয়া বাজার এলাকায় মগড়া নদীর ওপর ৭৫.২০ মিটার দীর্ঘ এবং ৭.৩ মিটার প্রস্থের এই সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটির প্রধান বিশেষত্ব হলো— নদীর দুই পাড়ে দুটি শক্তিশালী পিলার থাকলেও মাঝখানে কোনো পিলার নেই। এই আধুনিক স্থাপত্যশৈলী নদী প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে না এবং জলযানের চলাচলেও সুবিধা দেবে। মেসার্স হামিম ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শুরু করে। বর্তমানে সেতুর মূল কাঠামো দৃশ্যমান এবং ফিনিশিং কাজের ব্যস্ততা চলছে।
দীর্ঘদিন ধরে রৌহা ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষকে বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে মগড়া নদী পার হতে হতো। যাতায়াতের এই চরম অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক জরুরি বা জটিল রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হতো না, যা অনেক সময় প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এই সেতুটি এই অঞ্চলের মানুষের কাছে এক প্রকার ‘লাইফলাইন’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নেত্রকোনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, সেতুটি নির্মিত হলে রৌহা ইউনিয়নের সাথে সাতপাই রেলক্রসিং বাজার ও মূল শহরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এটি বিকল্প বাইপাস হিসেবে কাজ করায় জেলা শহরের অভ্যন্তরীণ যানজট বহুলকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা ও পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশা উপজেলার যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, জুলাই মাসে সেতুটি চালু হলে তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি ঢাকা ও ময়মনসিংহে দ্রুত বাজারজাত করা সহজ হবে। যাতায়াত সহজ হওয়ার ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে এবং জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ