জনগণের টাকায় উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো অনিয়ম চলবে না: এমপি মিলন

জনগণের টাকায় উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো অনিয়ম চলবে না: এমপি মিলন

আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেছেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ রাখা হবে না। সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে এই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি মিলন জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কঠোর নজরদারি ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন: “বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এখন সময় এসেছে সেই চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার। জনগণের টাকা লুটেপুটে খাওয়ার দিন শেষ।”

তিনি বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

পবা উপজেলার ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কাটাখালি ও নওহাটা পৌরসভা এবং আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই অঞ্চল কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে সমৃদ্ধ। পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজের সভাপতিত্বে সভায় জানানো হয়, সরকারি নির্দেশনা মেনে সুশাসন নিশ্চিত করাই হবে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। জনগণের সেবা ও প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— আরএমপি এয়ারপোর্ট থানার ওসি মাছুমা মুস্তারি, উপজেলা প্রকৌশলী মকবুল হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান, কৃষি কর্মকর্তা এমএ মান্নান প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

এস.এইচ.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন