ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ওয়াফিক শিপলু: বগুড়ায় একটি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জনতা ব্যাংকের এক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত শারীরিক নির্যাতনের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা সামিউল হাসান শুভ (৩৩) নামের ওই কর্মকর্তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সামিউল জনতা ব্যাংকের দুপচাঁচিয়া শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া শহরের ২য় বাইপাস রেলগেট সংলগ্ন সাবগ্রামে অবস্থিত ‘মায়ের আশ্রয়’ নামের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সামিউলকে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, মাদকাসক্তি ও মানসিক সমস্যায় ভোগায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শেই তাঁকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল। ভর্তির ১১ দিনের মাথায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ভগ্নিপতি এটিএম ফরহাদ অভিযোগ করেন, হাসপাতালে সামিউলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তাঁর দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং নিরাময় কেন্দ্রে পৈশাচিক মারধরের ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের স্বজনরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাময় কেন্দ্রের এক কর্মীকে আটক করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, ওই প্রতিষ্ঠানে কোনো অনিয়ম, অবহেলা বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে কি না তা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ