প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছে ৪ ইসলামিক দল

প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছে ৪ ইসলামিক দল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। ১৯৭৩ সালের পর এই প্রথম জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও আরও তিনটি ইসলামি রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ইসলামি ধারার চারটি দল মোট ৭২টি আসনে জয়লাভ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৭টি আসনের মধ্যে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৮টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসনে জয়ী হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও ১১ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত ও স্বতন্ত্রভাবে লড়া আরও তিনটি ইসলামি দল মোট ৪টি আসনে জয় পেয়েছে:

  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা): দলটি দুটি আসনে জয়লাভ করেছে। ময়মনসিংহ-২ আসনে মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন। এছাড়া মাদারীপুর-১ আসনে মাওলানা সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

  • খেলাফত মজলিস (দেয়ালঘড়ি): ১১ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে সিলেট-৫ আসনে জয় পেয়েছেন মুফতি আবুল হাসান।

  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা): সারাদেশে এককভাবে প্রার্থী দিলেও দলটি বরগুনা-১ আসনে চমক দেখিয়েছে। দলটির প্রার্থী মো. অলি উল্লাহ ১ লাখ ৪০ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলার বেশ কিছু আসনে দলটি দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে।

স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নির্বাচনে জামায়াত ছাড়া অন্য কোনো ইসলামি দল সংসদে আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। অতীতে তরিকত ফেডারেশন বা ইসলামী ঐক্যজোটের মতো দলগুলো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করলেও তা ছিল বড় দলের ছায়ায় বা জোটের মাধ্যমে। কিন্তু এবার একক শক্তিতে এবং নিজস্ব প্রতীকে একাধিক ইসলামি দলের জয়লাভকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘ধর্মপ্রাণ ভোটারদের মেরুকরণ’ হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ৫১টি দলের ২ হাজার ৯০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এর মধ্যে ৯টি দল সংসদে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। এই নতুন সংসদীয় কাঠামো বাংলাদেশের ভবিষ্যতে আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এন.ডি/সকালবেলা

মন্তব্য করুন