আ.লীগ নেতা ও বহিষ্কৃত চেয়ারম্যানকে পুনর্বহালে বিএনপি নেতাদের কারসাজির অভিযোগ

আ.লীগ নেতা ও বহিষ্কৃত চেয়ারম্যানকে পুনর্বহালে বিএনপি নেতাদের কারসাজির অভিযোগ

মোঃ হুমায়ুন কবীর, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি এম এ কাইয়ুমকে স্ব-পদে পুনর্বহাল করতে বিএনপির একটি অংশের নেতাদের বিরুদ্ধে নেপথ্যে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। 

জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়ন চালানো এবং একাধিক মামলার আসামিকে পুনরায় দায়িত্বে ফেরানোর এমন গুঞ্জনে স্থানীয় তৃণমূল বিএনপি ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ডৌহাখলা ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নেতার চেয়ারে ফেরার খবরে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে রাজপথে থেকে আন্দোলন দমনে সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এম এ কাইয়ুম। 

তিনি সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফা আনজুম পপির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলাসহ রাষ্ট্রদ্রোহ ও অন্যান্য অন্তত ৭টি মামলা রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও বর্তমানে বিএনপির একটি ক্ষুদ্র অংশ অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাকে পুনরায় চেয়ারে বসানোর পাঁয়তারা করছে। এক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মী।

এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই কাইয়ুম চেয়ারম্যান আমার ভাইকে হত্যা করেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলেও তার দোসররা এখনো কিছু নেতার ছত্রছায়ায় ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা উচিত। তাকে যদি পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হয় অর্থাৎ পুনর্বহাল করা হয়, তবে এলাকায় আগুনের দাবানল সৃষ্টি হবে এবং চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।"

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, "চেয়ারম্যান পুনর্বহালের বিষয়টি নিয়ে আমি অবগত নই। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে কথা বললে বিস্তারিত জানা যাবে।"

ময়মনসিংহ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) মো. আশিক নূর জানান, "উক্ত চেয়ারম্যানকে পুনর্বহালের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।"

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন