বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে মুজিব-হাসিনা সম্পর্কিত বই জব্দ

প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৬:০৩ অপরাহ্ণ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে মুজিব-হাসিনা সম্পর্কিত বই জব্দ

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার (বাস) থেকে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩০০টি বই জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। 

আজ বুধবার (১০ জুন) দুপুরে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আপত্তির মুখে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে এই তল্লাশি ও বই জব্দের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী কলেজ চত্বরে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের বাসটি অবস্থান করছিল। ওই সময় পাঠাগারের বইয়ের তাকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ নেতাদের জীবনী ও রাজনৈতিক মতাদর্শের বই দেখতে পান মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বাসটিকে অবরুদ্ধ করে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।

মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিন বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতনের পরও সরকারি ও বেসরকারি পাঠাগারে তাদের গুণকীর্তনের বই রাখা মানে সরিষার মধ্যে ভূত লুকিয়ে রাখার শামিল। একটি বিশেষ গোষ্ঠী সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব বই ছড়িয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের গোপন চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর সাথে জড়িত দোষী কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবি করছি।”

বাসটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আনার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারটিতে বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন। তল্লাশিকালে তারা শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বয়ান, সাময়িকী, প্রবন্ধ ও ওবায়দুল কাদেরের লেখা প্রায় ৩০০টি বই জব্দ করে জেলা প্রশাসনের হেফাজতে নেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি লিখিত মুচলেকা দেওয়া হয়। মুচলেকায় তারা উল্লেখ করেন, এখন থেকে পাঠাগারে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার বয়ান বা প্রশংসা সংশ্লিষ্ট কোনো গ্রন্থ, সাময়িকী বা প্রবন্ধ প্রদর্শন বা পাঠকদের জন্য রাখা হবে না।

জানতে চাইলে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, “রাজশাহী জোনে আমাদের বইগুলো সুরক্ষার জন্য আলাদা কোনো গুদাম বা স্থায়ী রাখার জায়গা নেই। যার কারণে স্থান সংকুলানের অভাবে বইগুলো গাড়ির ভেতরের তাকেই রাখা ছিল। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এগুলো সাধারণ পাঠকদের কাউকে ইস্যু বা পড়তে দেওয়া হতো না।”

এই বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন