স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যই কি সীমান্ত হত্যায় সরকারের অবস্থান? প্রশ্ন তুললেন নাহিদ ইসলাম
অনলাইন ডেস্ক: সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দীন আহমদের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং দেশবাসীর জন্য চরম অপমানজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, "সরকারের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে এই ধরনের নতজানু বক্তব্য শোনা সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।" গতকাল শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাত ১টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, "তিন দিন পার হয়ে গেলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দীন আহমদ তাঁর ওই আপত্তিকর বক্তব্যটি এখনো প্রত্যাহার করেননি। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের কোনো আনুষ্ঠানিক নিন্দা বা ব্যাখ্যা জানানো হয়নি। ফলে আমাদের বাধ্য হয়েই ধরে নিতে হচ্ছে যে, সালাহ উদ্দীন আহমদের এই বিতর্কিত বক্তব্যই মূলত সীমান্ত হত্যা নিয়ে বর্তমান সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান।"
বিজ্ঞপ্তিতে নাহিদ ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া আগের বক্তব্যটি হুবহু উল্লেখ করে মনে করিয়ে দেন, যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন— "আপনারা যেটাকে বর্ডার কিলিং বলছেন, সে সম্পর্কে যদি আপনারা বিস্তারিত জানেন, তাহলে খুশি হবো। বর্ডার কিলিং হচ্ছে— যদি অন্য দেশের বাহিনী কর্তৃক আমাদের সীমান্তে অথবা জিরো লাইনে এসে কিলিং করে, সেটাকে আমরা বর্ডার কিলিং বলতে পারি। কিন্তু যদি আমাদের সীমানার অভ্যন্তরে এবং তাদের সীমানার অভ্যন্তরে কোনো রকমের অপরাধে কেউ জড়িত থাকে, যদি কেউ ইললিগ্যাল ট্রেসপাস (অনুপ্রবেশ) করে যায়, সেটা তারা (সীমান্তরক্ষী বাহিনী) কীভাবে অ্যাড্রেস করবে, তা তাদের দেশীয় আইনে করবে। এটাকে বর্ডার কিলিং বলা ঠিক হবে না।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই যুক্তির কড়া সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, "তাঁর এমন অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট নীতিমালার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। কারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তির (আইসিসিপিআর) ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার একটি সহজাত অধিকার এবং রাষ্ট্রগুলো তাদের আইন দ্বারা এই অধিকার রক্ষা করতে বাধ্য। এছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের জাতিসংঘের সুনির্দিষ্ট নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রাণঘাতী অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র কেবল তখনই ব্যবহার করা যাবে, যখন নিজের বা অন্যের জীবন বাঁচানোর অন্য কোনো বিকল্প উপায় থাকবে না। চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অন্য কোনো সীমান্ত অপরাধ দমনে কোনো অবস্থাতেই প্রাণঘাতী অস্ত্র বা নির্বিচারে গুলি ছুড়ে মানুষ হত্যার সুযোগ নেই।"
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, "সীমান্ত হত্যা নিয়ে ইতোপূর্বে ঠিক এই ধরনের গণবিরোধী বক্তব্য দিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ভারতের প্রতি শেখ হাসিনা সরকারের সেই নতজানু নীতি এবং এর ভয়াবহ পরিণতি আজ দেশবাসীর কাছে সর্বজনবিদিত। ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে গঠিত কোনো সরকারের দায়িত্বশীলের মুখে এমন অবস্থান কোনোভাবেই অগ্রহণযোগ্য এবং গভীরভাবে উদ্বেগজনক।" তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের জীবনের সুরক্ষার্থে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর এই বক্তব্য প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।